প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের মধ্যে চিয়া সিডের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্স্বাস্থ্য উন্নত করার জন্য অনেকেই নিয়মিত চিয়া সিড গ্রহণ করেন। এই বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে, এই উপকারী বীজটি সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে খালি পেটে অথবা ভুলভাবে চিয়া সিড গ্রহণ করলে কিছু মানুষের শারীরিক অস্বস্তি হতে পারে।
জানুন, কোন পরিস্থিতিতে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত-
১. যাদের গ্যাস্ট্রিক ও পেট ফাঁপার সমস্যা রয়েছে: চিয়া সিডে প্রচুর ফাইবার থাকে। হঠাৎ করে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে পেটে গ্যাস, অস্বস্তি, পেট ফাঁপা কিংবা পেটব্যথা হতে পারে। যাদের আগে থেকেই হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অল্প পরিমাণে শুরু করা উচিত।
২. যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে: চিয়া সিডের ফাইবার মল নরম করতে এবং মলত্যাগ সহজ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে, পর্যাপ্ত পানি ছাড়া চিয়া সিড খেলে উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই শুকনো চিয়া সিড না খেয়ে যথেষ্ট পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া উচিত।
৩. যাদের অন্ত্রের সংকোচন বা ব্লকেজের ঝুঁকি রয়েছে: যাদের অন্ত্রে সংকীর্ণতা, অন্ত্রের বাধা বা খাবার চলাচলে সমস্যা রয়েছে, তাদের চিয়া সিড খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অপরিহার্য। কারণ এটি পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে।
৪. যাদের রক্তচাপ কম থাকে: চিয়া সিড রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে, যাদের আগে থেকেই রক্তচাপ কম অথবা যারা রক্তচাপ কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।
৫. যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে: চিয়া সিডে থাকা ফাইবার খাবারের পর রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতি কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে, যারা ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত চিয়া সিড যুক্ত করলে রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
৬. যাদের চিয়া সিডে অ্যালার্জি রয়েছে: চিয়া সিড খাওয়ার পর চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে আর খাওয়া উচিত নয়। শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
৭. যাদের গিলতে সমস্যা হয়: চিয়া সিড পানি পেলে দ্রুত ফুলে জেলির মতো হয়ে যায়। তাই শুকনো চিয়া সিড সরাসরি খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যাদের খাবার গিলতে সমস্যা বা খাদ্যনালিতে সংকীর্ণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি শ্বাসনালি বা খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাহলে কীভাবে খাবেন চিয়া সিড?
১. প্রথমে ১ চা-চামচ চিয়া সিড দিয়ে শুরু করতে পারেন।
২. এক গ্লাস পানিতে অন্তত ২০–৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৪. প্রথম থেকেই বেশি পরিমাণে খাবেন না।
৫. পেটে অস্বস্তি হলে খাওয়া বন্ধ করে কারণ বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন