প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সোনার হার দেখিয়ে এবং বিভিন্ন অজুহাতে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি তাঁদের কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে মালঞ্চ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে যোগদান করেন মিজানুর রহমান। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি মুসল্লি ও এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেন। পরে ব্যক্তিগত আর্থিক সংকট, বেতন না পাওয়া ও জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা ধার নেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দিতে তিনি হংকং থেকে আসা সোনার নেকলেসের ছবি দেখান।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ইমরানের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, জাহাঙ্গীর মাস্টারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, কাদেরের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং ইসমাঈল হোসেন রাজার কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা পাঁচজনের কাছ থেকে নেওয়া টাকার মোট পরিমাণ ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা। বাকি টাকার বিষয়ে অভিযোগে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার দুপুর পর্যন্ত মিজানুর রহমান স্বাভাবিকভাবে মসজিদে ছিলেন এবং মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এরপর থেকে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগকারী মো. জুবায়ের বলেন, গত ৫ অক্টোবর মিজানুর রহমান তাঁর কাছে টাকার প্রয়োজনের কথা জানান। পরে তিনি মুঠোফোনে সোনার একটি নেকলেসের ছবি দেখিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। ইমামের ওপর বিশ্বাস করে তিনি নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। কিছুদিন পরই মিজানুর রহমান চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মালঞ্চ জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমরা আগে জানতাম না। কেউ অর্থ লেনদেনের আগে কমিটিকে অবহিত করেননি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সভা করে আইনি করণীয় ঠিক করা হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিজানুর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর পর্যালোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন