প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। নিহতদের মধ্যে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসির আল-বুরশও অন্তর্ভুক্ত। শুক্রবারের হামলায় আহত একজন শনিবার মারা যান।
চিকিৎসাসূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা জানায়, শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া, শুক্রবারের হামলায় আহত একজন শনিবার মৃত্যুবরণ করেন।
শনিবার গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান বাজার এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরাইল ড্রোন হামলা চালায়। এতে একজন নিহত হন এবং অন্তত চারজন আহত হন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে।
হামলার পর গাড়িটিতে আগুন ধরে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেটি জ্বলতে থাকে। পরে উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিভিয়ে দেন। আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া মরদেহটি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গাজার আলজাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, গাড়িটিতে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টা গাড়িটি জ্বলছিল। নিহত ব্যক্তির মরদেহ সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাহমুদ আরও জানান, শনিবার সকাল থেকেই পুরো গাজা উপত্যকার আকাশে ইসরাইলি নজরদারি বিমান, হামলাকারী ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার খুব নিচু দিয়ে উড়ছিল।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ছেলেও নিহত
এর আগে, শনিবার উত্তর গাজার জাবালিয়ায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসির আল-বুরশ নিহত হন। আজ-জাহরা এলাকায় শরণার্থীশিবিরের পশ্চিম দিকে এ হামলা চালানো হয়, যেখানে আরও একজন গুরুতর আহত হন।
বাসিরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আল জাজিরার কাছে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুনির আল-বুরশ তার ছেলের কম্বলে মোড়ানো মরদেহ বহন করছেন। তিনি অন্য স্বজন ও শোকাহতদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি হাসপাতালে নিয়ে যান।
ভিডিওতে মুনির আল-বুরশ বলেন, ‘আমরা পাশাপাশি ছিলাম। বাসির আমাকে বলেছিল, ইসরাইলিরা আমাদের দুজনকেই লক্ষ্য করছে। আমি তাকে বলেছিলাম, ভালো, অন্তত আমরা একসঙ্গে জান্নাতে যাব। তাঁবু থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হত্যা করা হয়।’
আল জাজিরার সাংবাদিক মাহমুদ জানান, স্থানীয় সংগঠনগুলোর পরিচালিত বিকল্প শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলার সময় ওই হামলা হয়। একটি ফিল্ড হাসপাতালের পেছনে এসব শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। তাঁবু থেকে বের হওয়ার সময় বাসিরকে সরাসরি ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত করা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মুনির আল-বুরশের বড় ছেলে বাসিরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।
মাহমুদ বলেন, হামলাটি কেন চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দেয়নি। কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার পর সাধারণত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ হামলার কারণ ব্যাখ্যা করে থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন