প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চারদিন পর তালাবদ্ধ ঘর থেকে আছিয়া বেগম নামের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধার পচা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথপুর পৌরসভার ইনাতনগর এলাকায়।
আছিয়া বেগম ওই এলাকার মৃত খালিক মিয়ার স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে আছিয়া বেগম একা বাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে জেলা শহর সুনামগঞ্জে যান তিনি। এরপর থেকে তার সাথে পরিবারের সদস্যদের কেউ যোগাযোগ করতে পারেননি। সোমবার রাতে স্থানীয়রা ওই তালাবদ্ধ ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পচা দুর্গন্ধ অনুভব করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে খাটের উপর কম্বল গায়ে অর্ধ-গলিত অবস্থায় আছিয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কল্পনা বেগম, আছিয়া বেগমের মেয়ে, বলেন, "বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মায়ের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।" তিনি জানান, একাধিকবার মোবাইলে কল করেও তার মাকে পাওয়া যায়নি। আছিয়া বেগম একাই থাকতেন।
কল্পনার স্বামী দিলশাদ মিয়া জানান, "আমার শ্বাশুড়ির সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতাও ছিল না।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, আছিয়া বেগমের কাছে চিকিৎসার জন্য নগদ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিল। তাদের ধারণা, ওই টাকার জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘরটি বাহির থেকে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, "ওই মহিলার দেহের বেশকিছু অংশ পচে গেছে।" মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হবে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, "ওই ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ঘরের একটি মাত্র দরজা ছিল।" তিনি আরও জানান, পুলিশ তদন্ত করছে এবং দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন