প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির (মুমুপকস) তহবিল থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে, জড়িতদের বিচার, নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ পুনর্বহাল এবং বর্তমান প্রশাসক ইশতিয়াক আজিজকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সমিতির সদস্যরা। তারা একই সঙ্গে বিজয় রাকিন সিটির ফ্ল্যাট মালিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
এসব দাবির পক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হামলা ও বাধার অভিযোগ করেছেন আয়োজকরা। তাদের দাবি, একদল ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার সরিয়ে ফেলেন এবং সদস্যদের হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় স্লোগান দিয়ে তাদের সংবাদ সম্মেলনস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন বিজয় রাকিন সিটির ভেতরেও হামলা ও তাণ্ডব চালানো হয়। এতে একজন ফ্ল্যাট মালিক আহত হন এবং কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করা হয়। এই ঘটনার ফলে ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) কাজী মফিজুল ইসলাম জানান, বিজয় রাকিন সিটির ফ্ল্যাট মালিকেরা বৈধ দলিল, নিবন্ধিত বণ্টননামা ও নামজারির মাধ্যমে মালিকানা অর্জন করেছেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। তিনি বলেন, এসব ফ্ল্যাটে তাদের অবৈধ বসবাসের বিষয়ে আদালতের কোনো নির্দেশনা নেই। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও সমিতির সদস্য হতে পারেন। তাই ফ্ল্যাট মালিকদের হয়রানি ও তাদের বিরুদ্ধে তাণ্ডব চালানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমোদিত ৫১০ সদস্যের ভোটার তালিকা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদ ৭ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে নির্বাচিত কমিটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সদস্যদের।
তাদের দাবি, সাবেক প্রশাসক আবু মাসুদ সমিতির ব্যাংক হিসাব থেকে ১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসক ইশতিয়াক আজিজের বিরুদ্ধেও আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৯৭ সালে নিবন্ধিত সমিতিটির সদস্যদের অর্থায়নে ১৬ দশমিক ৩ একর জমিতে বিজয় রাকিন সিটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। প্রকল্পটির ২৭৪টি নিবন্ধিত ফ্ল্যাটের মালিকদের হয়রানি ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন