প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর আশা এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। কাতার কর্তৃক প্রদত্ত শান্তি প্রস্তাবটি ইরান নাকচ করেছে। তেহরানের বক্তব্য, প্রস্তাবটি ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। ইরান এও জানিয়েছে, তারা পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার কাতার ইরানের আলোচকদের কাছে একটি খসড়া চুক্তি উপস্থাপন করেছিল। আট মাস ধরে চলমান সংঘাত বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল হামলা পুনরায় শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পরমাণু ইস্যুতে অনড় তেহরান
যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার দাবি জানিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে।
এদিকে, ইরান বারবার উল্লেখ করেছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে নয়। দেশটির দাবি, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে দেশের বেসামরিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য।
এই বিরোধের কারণে শান্তি আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় না দিলে সমঝোতার পথ কতটা এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থানে নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে আসছেন। তিনি দেশটির সংসদ নির্বাচনে আবারও জয়ের চেষ্টা করছেন।
এখন পর্যন্ত ৭৭ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর জোট ইসরাইলের সংসদে সবচেয়ে বড় অবস্থানে রয়েছে।
বুধবার নতুন সরকার গঠনের আলোচনা শুরুর সময় নেতানিয়াহু জানান, ইরানের হুমকি দূর করতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করবেন।
তিনি ইরানকে ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটও ইরানের ওপর হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোরও সমর্থন করেছেন।
যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে বিশ্ববাজারের ঝুঁকি
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। জ্বালানির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের উসকানিতে নতুন হামলা হলে বিশ্ববাজারে ‘ভয়াবহ প্রভাব’ পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘পার্সি উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের উসকানিতে কোনো সামরিক দুঃসাহসিক পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে, তা গ্যাস সরবরাহকারী ও ভোক্তা—উভয়ের জন্যই বড় উদ্বেগের বিষয়।’
এই সতর্কবার্তা জ্বালানি বাজার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আবার সংঘাত শুরু হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ পড়তে পারে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব পড়তে পারে।
ইয়েমেনেও বাড়ছে সংঘাত
উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইয়েমেনের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট বাহিনী এবং ইরানপন্থী হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে।
বুধবার হুথিরা দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দর খালি করার আহ্বান জানায়। এই শহর সৌদি সমর্থিত সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
হুথিদের আনুষ্ঠানিক নাম আনসার আল্লাহ। সংগঠনটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এডেন বিমানবন্দরে অবস্থানরত সবাইকে অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। সেখানে একটি সৌদি সামরিক কার্গো বিমান রয়েছে। বিমানটিতে ইয়েমেনের জনগণকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র বহন করা হচ্ছে।’
তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, সোমবার থেকে ইয়েমেনে হুথি ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর লড়াইয়ে প্রায় ১০০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬৩ জন হুথি যোদ্ধা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে যুক্ত বাহিনীর ৩৪ জন সদস্যও নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে।
সামনে কী হতে পারে?
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ইসরাইলের নতুন হামলার হুমকি এবং ইয়েমেনের সংঘাত—এই সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
কাতারের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইরান যদি তার অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, নতুন সামরিক হামলা শুরু হলে তার প্রভাব শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। জ্বালানির দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিও নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র- মিডল ইস্ট আই
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন