প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দুনিয়ায় বলিউড অভিনেত্রী টুইংকেল খান্নার সাম্প্রতিক মন্তব্যটি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মুঘল ইতিহাসের সাথে জনপ্রিয় ভারতীয় খাবারের সম্পর্ক স্থাপন করে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, সেটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নেটপ্রভাবী সীমা খের টুইংকেলের বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
খাবার এবং এর উপকরণ নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে টুইংকেল লিখেছেন, ‘যাঁরা ইতিহাসের বই থেকে মুঘলদের মুছে ফেলতে চান, তাঁদের প্রথমে দুপুরের খাবারে বদল আনতে হবে। কোফতা, কোর্মা, কাবাব—এসব খাওয়া ছেড়ে দিন। মুঘলাই পনির খেয়ে তো সেটা হবে না।
একই সঙ্গে দুটো কাজ করতে পারবেন না।’
টুইংকেলের মন্তব্যটি মূলত শ্লেষাত্মক হলেও সীমা খেরসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনেকেই এটি ভালোভাবে নেননি। টুইংকেলকে উদ্দেশ্য করে সীমা একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ইতিহাসের একটি হিংসাত্মক অধ্যায়কে বোঝাতে খাবারের উদাহরণ টানা কোনোভাবেই হাস্যকর বা উপযুক্ত নয়।
নিজের বক্তব্যের শুরুতেই সীমা লেখেন, ‘নৃশংস ইতিহাসের সঙ্গে খাবারের তুলনা করা বা দুটিকে এক করে দেখা মজারও নয়, যুক্তিসংগতও নয়।
এরপর সীমা টুইংকেলের স্বামী এবং অভিনেতা অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘কেশরী’ সিনেমার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
সারাগঢ়ীর যুদ্ধের ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি সম্পর্কে তিনি লেখেন, “সারাগঢ়ীর যুদ্ধের উপর তৈরি হয়েছিল ‘কেশরী’। ঠিক এই কারণেই এমন গল্প নিয়ে ছবি তৈরি করার প্রয়োজন হয়েছিল, কারণ আমাদের স্কুলের বইয়ে এই ধরনের ঘটনা প্রায় পড়ানোই হয়নি। আর হ্যাঁ, আপনার স্বামী এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এমনকি, বলা হয়, ছবিটি দেখে আপনি কেঁদেছিলেন এবং একে দুর্দান্ত ছবি বলেছিলেন।
তাহলে সেই ছবি আপনাকে ওই সময়ের হিংসার কথা মনে করিয়ে দিলেও পরের দিন থেকে আপনি কি মুরগির নানা পদ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন?”
এখানেই সীমা থেমে থাকেননি। ভারতের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে খাবারকে কেন যুক্তি হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
সীমার কথায়, “আপনি যদি ঐতিহাসিক রক্তপাতের ঘটনা নিয়ে তৈরি ছবি দেখতে পারেন, যাঁরা লড়াই করেছিলেন তাঁদের সাহসকে স্বীকার করতে পারেন এবং তার পরেও নিশ্চিন্তে খাবার উপভোগ করতে পারেন, তা হলে এখন এই প্রসঙ্গে হঠাৎ খাবারকে যুক্তি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কেন?”
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। সীমা খেরের মতো অনেকেই টুইঙ্কেলের মন্তব্যের সমালোচনা করলেও তাঁর অনুরাগীদের একাংশ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন।
তাদের মতে, টুইংকেলের বক্তব্য ছিল নিছক ব্যঙ্গ ও রসিকতার ছলে বলা, তাই সেটিকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ফলে মন্তব্যটি ঘিরে বিতর্ক এখনো অব্যাহত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন