প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মদ্যপানে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের বলে অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত বিশেষ কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ হোসেন সোমবার (১ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত তিনজন হলেন উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৫০), বুজরুক ঝালই এলাকার মৃত মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) এবং সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মৃত কফুর উদ্দিনের ছেলে সাজু মিয়া (৫৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে বালারহাট বাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মদ্যপান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে সাধারণ শারীরিক অসুস্থতা মনে হলেও কিছু সময় পর তাদের অবস্থার অবনতি ঘটে।
ধারণা করা হচ্ছে, তারা যে মদ পান করেছিলেন, তাতে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ছিল।
জানা গেছে, মদ্যপানের পর কয়েকজনের মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট ও অচেতন হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তাদের অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সাত্তার ও সাজু মিয়ার মৃত্যু হয়।
এছাড়া রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হুজুর আলী।
এদিকে একই ঘটনায় আরও দুইজন বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন, যদিও তাদের শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, তারা এখনও আশঙ্কামুক্ত নন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মাইদুল ইসলাম জানান, ‘তারা মদ্যপানের কারণেই মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত এড়ানোর জন্য বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা চলছে বলেও শুনেছি।’
ঘটনার খবর পেয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
মিঠাপুকুর থানার ওসি এরশাদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং কথিত বিষাক্ত মদের উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন