প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে বিদায় জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রাষ্ট্রদূতের সম্মানে বিদায়ী মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন তিনি।
মধ্যাহ্নভোজে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পররাষ্ট্রসচিব ইয়াও ওয়েনের প্রায় চার বছরের দায়িত্বকালের সক্রিয় সহযোগিতা, ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও অবদানের প্রশংসা করেন, যা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে জোরদার করতে সহায়তা করেছে।
গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সফরটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ওই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত করার কথা জানায়। সফরের সফল ফলাফল এবং যৌথ বিবৃতি প্রকাশে চীনের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।
পররাষ্ট্রসচিব এ সময় তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, নদী ব্যবস্থাপনায় বৃহত্তর সহযোগিতা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর এবং বাংলাদেশে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) নিয়ে চলমান সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এসব ক্ষেত্রে গতি বজায় রাখার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনের জন্য পররাষ্ট্রসচিবকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশে প্রায় চার বছরের দায়িত্বকালকে ঘটনাবহুল ও স্মরণীয় উল্লেখ করে তিনি এ সময়ে উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন সফর এবং দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা স্মরণ করেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর, যৌথ বিবৃতি প্রকাশ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়গুলোও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইয়াও ওয়েন। একই সঙ্গে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরের কাজ দ্রুত শুরুর আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি চীনের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ইয়াও ওয়েন। এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়কে সহায়তার জন্য চীনের দেওয়া ৮ লাখ মার্কিন ডলারের অনুদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
দুই পক্ষই বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করে। সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে হওয়া সমঝোতাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের বন্ধুত্ব এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, এসব কারণে বাংলাদেশে তার অবস্থান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মধ্যাহ্নভোজ শেষে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পরস্পরের মধ্যে উপহার বিনিময় করেন। পরে পররাষ্ট্রসচিব তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন