প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের সব জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে সরকারের দ্বারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। নতুন রেলপথ নির্মাণ, বিদ্যমান লাইনের সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যে, চলমান এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ধাপে ধাপে দেশের ৬৪ জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসবে।
রেলওয়ে সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমানে ৪৮টি জেলা জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত আছে। তবে এখনো ১৬টি জেলায় রেলপথ পৌঁছে নাই। প্রথম ধাপে মোট ১০টি জেলা যেগুলো রেলসেবা থেকে বঞ্চিত, সেগুলোকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরে এই উদ্যোগের পরবর্তী ধাপের মধ্যে আরও ছয়টি জেলায় রেল সংযোগ সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা মেইল এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সূত্র জানাচ্ছে, প্রথম ধাপে শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব জেলার সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ভোলা, নেত্রকোনা ও মানিকগঞ্জকে পরবর্তী ধাপে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাতক্ষীরায় রেলপথ সম্প্রসারণে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে। যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং এই প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছেন। একইভাবে, মধুখালী-মাগুরা রেলপথের সম্প্রসারণ, নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত নতুন রেললাইন এবং শেরপুর হয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও বিভিন্ন কাজ অব্যাহত রয়েছে।
বরিশাল বিভাগেও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভাঙ্গা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে, রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন জেলাগুলোতে ট্রেন চলাচলের সময়সীমা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প প্রণয়ন, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান মন্তব্য করেছেন, "রেলবঞ্চিত জেলাগুলোকে নেটওয়ার্কে আনতে পরিকল্পনার কাজ চলছে। বর্তমানে বেশির ভাগ প্রকল্পই সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে। এসব সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।"
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন চার শতাধিক যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী রেলে ভ্রমণ করেন এবং প্রায় এক কোটি টন পণ্য পরিবহন করা হয়। নতুন জেলাগুলো রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা আরো বাড়বে বলে রেলওয়ে আশাবাদী রয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৬-২০৪৫ মেয়াদের রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় এর সময়সীমা আরো বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ, কোচ ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুতির সমন্বিত পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে নতুন রেলপথ চালুর সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রী সেবা নিশ্চিত করা যায়।
এ বিষয়ে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব মন্তব্য করেছেন, "দেশের যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রেলসেবাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে ধাপে ধাপে ৬৪টি জেলার রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন