প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া এবং জ্বর হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের কাছে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
তারা দাবি করেছেন যে, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই। কারণ ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য কোনো ভ্যাকসিন নেই এবং সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর ওষুধও বাজুতে নেই। তবে এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ আমাদের চারপাশেই রয়েছে। এজন্যই সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে বরং সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা। এজন্য প্রথমে দরকার জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। কেননা, এডিস মশার উৎপত্তিস্থল আমাদের বাড়ির ভেতর, বাইরে, ছাদ এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি। সুতরাং, আমাদের প্রত্যেকের উচিত বাড়ির আঙিনা সবসময় পরিষ্কার করে রাখার কাজ করা। বাড়ির আনাচে-কানাচে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্রগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, ব্যবহারযোগ্য পাত্র, যেমন ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের ভর্তি পানির পাত্রগুলোর মধ্যে যেন কোনোভাবেই একনাগাড়ে পাঁচদিনের বেশি পানি জমে না থাকে। মূলত, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত অপরিহার্য।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুর কারণে ৪৭ জন মৃত্যু বরণ করেছেন। একই সময়ে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এবং ডেঙ্গুর কারণে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে শেষ নয়, বরং মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্থানীয় জনসমাজ থেকে শুরু হতে হবে। রোগীকে দ্রুত শনাক্তকরণ করা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করা, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে ডেঙ্গু জনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৃষ্টিকে যদি ডেঙ্গুর জন্য শুধুমাত্র একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে মনে করা হয়, তাহলে সংকট আরো গভীর হবে। তবে বৃষ্টির পর যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা যায়, তাহলে ডেঙ্গুর এই বার্ষিক দুর্ভোগ থেকে দেশকে পর্যায়ক্রমে মুক্ত করা সম্ভব।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান জানান, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই। আমাদের চারপাশে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকল মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এসময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমানোর প্রয়াস নিতে হবে। পাশাপাশি ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু জ্বরের মূল চিকিৎসা হলো শরীরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা। পানির সঙ্গে ফলের রস, স্যুপ, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত ইত্যাদি তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।
ডা. হাসান হাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্র হচ্ছে এডিস মশার বিস্তার রোধ করা এবং এই মশা কামড়াতে না পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এডিস মশা স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে, তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পাশাপাশি মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন