প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নদীপারের কাঁশফুল ও নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা নির্দেশ করে যে শরতের শাসন চলছে প্রকৃতিতে। তবে, দেশের উত্তর দুয়ার হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড়ে শীতের আগমন ঘটতে শুরু করেছে।
শীতকাল এখনও পুরোপুরি আসেনি, কিন্তু হেমন্তকে অতিক্রম করে এই ঋতু তার আগমনী বার্তা জানাতে শুরু করেছে। যখন নগরের বাসিন্দারা গরমে হাঁসফাঁস করছেন, তখন পঞ্চগড়ে শীতল হাওয়া বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত জনপদটিতে কয়েকদিন ধরে শীতের আভাস দেখা যাচ্ছে। দিনের বেলায় ঝলমলে রোদ থাকলেও রাতে তাপমাত্রা কমছে, ফলে প্রকৃতিতে শীত অনুভূত হচ্ছে। ভোরের আলো ফুটতেই পথঘাটে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার চাদর নেমে আসছে।
কুয়াশা সাধারণত সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত থাকে। অনেকেই রাতে কাঁথা জড়িয়ে ঘুমাচ্ছেন। ভোরে বাইরে বের হলে শরীরে হিমেল বাতাসের কোমল ছোঁয়া লাগছে। শীত পুরোপুরি আসার আগের এই সময় পঞ্চগড়ের প্রকৃতিতে বেশ উপভোগ্য। এখানে কনকনে ঠাণ্ডা নেই এবং শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে না। কেবলমাত্র হালকা শীতের মায়াবী আমেজ বিরাজ করছে।
পঞ্চগড়ের প্রতি মানুষের ধারণা ভিন্ন। কেউ কুয়াশায় মোড়া ভোরের কথা বলেন, কেউ সীমান্তঘেঁষা নির্মল প্রকৃতির কথা। আবার কেউ হিমেল বাতাসে দাঁড়িয়ে দূর পাহাড়ের হাতছানির কথা উল্লেখ করেন। শীত যত এগোবে, প্রকৃতির এই রূপ পরিবর্তিত হবে। কুয়াশা ঘন হবে, রাতের তাপমাত্রা আরও কমবে, এবং পঞ্চগড় হয়ে উঠবে শীতপ্রেমীদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য।
এখনই নগরের কোলাহল ছেড়ে পঞ্চগড়ের এই ব্যতিক্রমী আবহাওয়া উপভোগ করতে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটছেন। নগরের ব্যস্ততা, যানজট ও কোলাহল পেছনে ফেলে কেউ সবুজের কাছে যাচ্ছেন, কেউ শীতের আগমনী গান ও সৌন্দর্য খুঁজছেন।
সকালবেলার কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এবং নীল আকাশ মিলিয়ে পঞ্চগড় যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা শিল্পীর চিত্রকর্ম। এই সময়টিতে মেঘমুক্ত আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘাও দেখা যায়।
জেলায় বর্তমানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শীতের তীব্রতা বাড়তে এখনও সময় আছে, তবে শীত বরণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এ জনপদে।
শহরের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘শীতের এই সময়টি দারুণ উপভোগের। সকালে নামাজ পড়ে ঘুরে বেড়ালে শরীরে যে নির্মল হাওয়া লাগে, তার দাম লাখ টাকা।’ ঢাকা থেকে আসা রবিউল ইসলামের বক্তব্য, ‘ঢাকায় গরমে থাকা যায় না, ফ্যান ছাড়া ঘুমানো যায় না। এখানে রাতে বেশ ঠাণ্ডা। এই শীত উপভোগ করতেই আমরা পঞ্চগড়ে এসেছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, ‘গত কয়েকদিন ধরে সকালে কুয়াশা পড়ছে। মনে হচ্ছে শীত বুঝি চলে এলো। তবে দিনে প্রচণ্ড গরম থাকে।’
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, ‘শীত পঞ্চগড়ে এনে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এই সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘারও দেখা মেলে। তাই শীত উপভোগ এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পর্যটকরা ছুটে আসছেন।’
জেলা প্রশাসক আরও জানান, জেলা প্রশাসন জেলার পর্যটন এলাকাগুলোকে আরো বৈচিত্র্যময় করতে কাজ করে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন