প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনতাই, স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে একজন নারীও রয়েছে। এই সদস্যরা হানি ট্র্যাপ প্রতারক চক্রের অংশ বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক চক্রের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাইয়ের বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছীর নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার নাঈম হোসেন (২৫)।
মিডিয়া সেলে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার একটি স্কুলের কর্মচারী। গ্রেপ্তার হওয়া চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে তার পূর্বে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা বলার জন্য ওই শিক্ষককে নওগাঁ শহরের নিজের বাসায় ডেকে নেন মিলি। শিক্ষক যখন বাসায় পৌঁছান, তখন প্রতারক চক্রের বাকি সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে মারধরের ভয় দেখায়। এরপর তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করায় এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে সই করিয়ে নেয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যার ভিত্তিতে পুলিশ মাঠে নামে। এক সপ্তাহের অভিযানে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটকের পর তাদের কাছ থেকে শিক্ষকের জোরপূর্বক সই করা সেই ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ২ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলাভিত্তিক একটি সক্রিয় ব্ল্যাকমেইলার চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিকে নির্জন স্থানে ডেকে আনতো। এরপর ছবি তোলা, মারধরের হুমকি কিংবা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন