প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কন্যা মাহনূর সাফদারের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি জাব্বার খালিদের পুত্র আজান জাব্বারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিসরে নিকাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাহোরের শরিফ পরিবারের বাসভবন জাতি উমরায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য এবং কিছু অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
মাহনূর, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নাতনি। তার বিয়ের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কেবল বর-কনের সম্পর্ক নয়, বরং দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও আলোচনায় এসেছে। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্ধুত্বের মাধ্যমে গড়ে ওঠা পারিবারিক সম্পর্ক
মাহনূর ও শানজেহ আলি রোহালের মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তারা একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন এবং তাদের বন্ধুত্ব পরবর্তীতে আরো গভীর হয়েছে। শানজেহর দাদা এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের সাবেক নেতা শেখ রোহালে আসগরও এই বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
তিনি জানান, মাহনূর ও শানজেহ প্রায়ই একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এই বন্ধুত্বের মাধ্যমেই দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এর পর মাহনূরের ভাই এবং মরিয়ম নওয়াজের পুত্র জুনায়েদ সাফদারের সঙ্গে শানজেহর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের বিয়ে হয়, যা লাহোরে একাধিক আয়োজনে জমকালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এবার কয়েক মাস পর মাহনূর নিজেই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন।
আজানের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিসরে বিয়ে
মাহনূর ও আজানের নিকাহ জুনায়েদ ও শানজেহর বিয়ের তুলনায় অনেকটাই ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতি উমরায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওয়াজ শরিফ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং শরিফ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আজান জাব্বার, শিল্পপতি জাব্বার খালিদের পুত্র। তার পরিবারের ব্যবসা মূলত আটা ও ময়দা উৎপাদন খাতের সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে, মাহনূর বরাবরই পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের তুলনায় ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। বিয়ের কিছুদিন আগে তার সমাবর্তনেও মরিয়ম নওয়াজ উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের সাজেও ছিল আভিজাত্যের ছাপ
ঘরোয়া আয়োজনের মধ্যে হলেও মাহনূরের সাজ-সজ্জা সকলের নজর কাড়ে। পাকিস্তানি ডিজাইনার নিদা আজওয়ারের তৈরি পোশাক পরিধান করেছিলেন তিনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছবিতে মাহনূরকে আইভরি, সোনালি, গোলাপি ও ফিরোজা রঙের কারুকাজ করা ব্রাইডাল পোশাকে দেখা গেছে। তার সঙ্গে ছিল হীরার গয়না এবং চুলের সাজ ছিল তুলনামূলক সাদামাটা।
শরিফ পরিবারের অনেক জমকালো বিয়ের আয়োজনের তুলনায় মাহনূরের বিয়ের আয়োজন ছিল অনেকটাই সংযত। তবে সেই সরলতার মধ্যে তার বিয়ের পোশাক ও সাজে আভিজাত্যের ছাপ ছিল।
সব মিলিয়ে, মাহনূর সাফদারের বিয়ের গল্পে পাকিস্তানের একটি প্রভাবশালী পরিবারের নতুন অধ্যায় রয়েছে, পাশাপাশি দুই তরুণীর বন্ধুত্ব থেকে গড়ে ওঠা দুই পরিবারের সম্পর্কের কাহিনীও বিদ্যমান। যে বন্ধুত্ব একসময় জুনায়েদ ও শানজেহর বিয়ের পথ তৈরি করেছিল, এবার সেই বন্ধুত্বের মানুষটিই নতুন দাম্পত্য জীবন শুরু করলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন