প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে কখনো কখনো রবীন্দ্রসংগীত এক অনন্য অবলম্বন হয়ে ওঠে, যা শেকড়ের কাছে ফেরার অনুভূতি তৈরি করে। সুরের প্রতিটি পরতে জেগে ওঠে ফেলে আসা দেশ, চেনা প্রকৃতি এবং মাটির টান। সম্প্রতি, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একক রবীন্দ্রসংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী এবং বিভাস কালচারাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা তানজীনা তমা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ সেন্টারে।
অনুষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছিল ‘তুমি রবে নীরবে’, যা বিশ্বকবির কালজয়ী গানের পঙ্ক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে। নামের সঙ্গে মিলেমিশে ছিল সন্ধ্যার সুর ও আবেগ। শিল্পীর কণ্ঠে একে একে ধ্বনিত হয় রবীন্দ্রনাথের প্রেম, পূজা এবং প্রকৃতিপর্যায়ের গান। কখনো প্রেমের নিবিড় অনুভব, কখনো ভক্তির নিবেদন, আবার কখনো প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে রবীন্দ্রসংগীতের বিচিত্র অনুষঙ্গ শ্রোতাদের নিয়ে যায় এক মায়াময় জগতে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালি ও সংগীতপ্রেমীরা তানজীনা তমার সুরের মায়াজাল উপভোগ করেন।
আয়োজকদের মতে, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং রবীন্দ্রনাথের গান ও জীবনদর্শনের সঙ্গে তাদের পরিচিত করানো ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক, ভাষা ও সংস্কৃতির বন্ধন মানুষের হৃদয়ে অটুট থাকে, এবং সংগীতের মধ্য দিয়ে সেই অনুভবকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
তানজীনা তমার কাছে রবীন্দ্রসংগীত কেবল শিল্পচর্চা নয়, বরং এটি এক জীবনব্যাপী সাধনা। তাঁর বেড়ে ওঠার পরিবেশে সাংস্কৃতিক আবহ ছিল। পরিবারের গান ও সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ শৈশব থেকেই তাঁকে আকৃষ্ট করে। হাঁটতে শেখার বয়স থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুর ও বাণীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে তাঁর। সেই পরিচয় ক্রমে ভালো লাগায়, এবং ভালো লাগা থেকে গভীর অনুরাগে রূপ নেয়। একসময় রবীন্দ্রসংগীতই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের আরাধ্য।
রবীন্দ্রনাথের গান ও সাহিত্যদর্শন এখন তাঁর যাপিত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কবিগুরুর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রেম, প্রকৃতি, মানবতা ও জীবনের নানা অনুভূতিকে তিনি উপলব্ধি করেন। সেই উপলব্ধি সুরের আশ্রয়ে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা তাঁর সংগীতসাধনায়। ফলে, তাঁর কাছে গান গাওয়া নিছক সুরের পরিবেশনা নয়; বরং রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির অন্তর্নিহিত ভাব ও সৌন্দর্যের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার প্রয়াস।
দীর্ঘদিনের সাধনা ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের রবীন্দ্রসংগীতপ্রেমীদের কাছে পরিচিতি অর্জন করেছেন তানজীনা তমা। শিল্পী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভাস কালচারাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার প্রসারে ভূমিকা রাখছেন তিনি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রসংগীতের আবেদন পৌঁছে দেওয়াকে নিজের সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার অংশ মনে করেন এই শিল্পী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন