প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিল্লির পর এবার কলকাতার রাজপথে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার দেবীপক্ষের তৃতীয়ায় দুপুর ২টায় রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছে দলটি।
দলের এক নেতা জানিয়েছেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতে অংশ নিতে পারেন। তবে মিছিলের অনুমতি এবং মমতার উপস্থিতি—কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তৃণমূলের প্রকাশিত প্রচারপত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবি এবং দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের আটকের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দলটির দাবি, বিরোধীদের রাজনৈতিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিসর রক্ষার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি।
সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে ওই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথাও বলেছেন। দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের আটকের পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়েছে।
তবে মঙ্গলবারের কলকাতার কর্মসূচিতে মমতা উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দিল্লির কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তার কলকাতায় ফেরার সময়সূচি ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।
তৃণমূলের সাবেক রাজ্যসভার সদস্য শুভাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পুলিশ মিছিলের অনুমতি দেবে কি না, তা তারা জানেন না। তবে প্রতিবাদ মিছিল হবেই এবং দলনেত্রী তাতে অংশ নেবেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। তার বক্তব্য, তৃণমূল এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। দলটির কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষেরও আগ্রহ নেই।
দুর্গাপূজার আগে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়ছে। রাজাবাজার, সিআইটি রোড ও পার্ক সার্কাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিছিল হলে যান চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় পুলিশ অনুমতি দিলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
দিল্লিতে নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের পর কলকাতার এই কর্মসূচি তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত মিছিল কতটা জমায়েত করতে পারে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতে যোগ দেন কি না এবং পুলিশ কী সিদ্ধান্ত নেয়—এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন