প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ সিরাজ রব্বানী সানভী জানিয়েছেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ বগুড়ায় শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পুনরায় আগমন ঘটবে, যদি সকল প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তবে এর আগে স্টেডিয়ামের সার্বিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভেন্যু পরিদর্শনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজের জন্য ইতোমধ্যে কনসালটেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কনসালটেন্ট নিয়োগের মূল্যায়ন (ইভালুয়েশন), আর্কিটেকচারাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলো যাচাই করে গ্যালারিসহ সামগ্রিক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া ম্যাচ পরিচালনার জন্য এলইডি বা এনার্জি সেভিং লাইট স্থাপন করা হবে। সব মিলিয়ে সংস্কারের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ হতে আগামী নভেম্বর মাস পার হতে পারে। এরপর টেন্ডারসহ আনুষাঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে আগামী বছরের শুরুর দিকেই মূল সংস্কার কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিসিবির এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাঠের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং এটি গ্রাউন্ডস ডেভেলপমেন্টের অংশ হিসেবে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন করা হবে। আসিফ সিরাজ রব্বানী সানভী বলেন, স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বগুড়ার এই মাঠ নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং নিয়মিতভাবে এর তদারকি করে চলেছেন। সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে মূল স্টেডিয়ামের পাশের ফুটবল মাঠটিকে একটি মানসম্মত প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম যেন পুনরায় আইসিসির পূর্ণাঙ্গ ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেই জন্য আইসিসির প্রতিনিধি দলের মাঠ পরিদর্শনের ব্যবস্থাও করা হবে। সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পরপরই যাতে আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন করা সম্ভব হয়, সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করছে বিসিবি। উল্লেখ্য, শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম একসময় উত্তরাঞ্চলের ক্রিকেটের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল। ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চে যাত্রা শুরু হয় এই ভেন্যুতে। পরবর্তী সময়ে আইসিসির স্বীকৃতি পাওয়ার পর এখানে একটি টেস্ট ও পাঁচটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ঐতিহাসিক স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই মাঠের সঙ্গে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে।
এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়মিত সূচি থেকে হারিয়ে যায় বগুড়া। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখান থেকে জনবল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে নিলে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে আন্দোলনের মুখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাম্প্রতিক সময়ে আবারও মাঠে ক্রিকেট ফিরতে শুরু করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন