প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ জনগণ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানে একাধিক বঞ্চনার শিকার। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (এমপিআই) অনুযায়ী, ভারতে এই হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে, বিভিন্ন বছরের পারিবারিক জরিপের ভিত্তিতে দেশগুলোর হিসাব তৈরি হওয়ায় এ তুলনা একই সময়ের পরিস্থিতির পুরোপুরি প্রতিফলন নয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত ইউএনডিপির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পাকিস্তানে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার মানুষের মধ্যে বঞ্চনার গড় তীব্রতা ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশটির আরও ১২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ এ ধরনের দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচকের পরিধি আয়ভিত্তিক দারিদ্র্য পরিমাপের চেয়ে বিস্তৃত। এতে পুষ্টি, শিশুমৃত্যু, শিক্ষাবর্ষ, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, স্যানিটেশন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, বাসস্থান ও পরিবারের সম্পদের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। একাধিক বঞ্চনা একসঙ্গে থাকলে একজন ব্যক্তি বা পরিবারকে বহুমাত্রিক দরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বিশ্বজুড়েও বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ইউএনডিপির ২০২৬ সালের বৈশ্বিক সূচক অনুযায়ী, ১০৮টি দেশের ১২০ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন। গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ সংখ্যা বেড়েছে। মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।
বিশ্বজুড়ে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার মানুষের অর্ধেকেরও বেশি শিশু। এ ধরনের দারিদ্র্যে থাকা শিশুর সংখ্যা প্রায় ৬১ কোটি ৭০ লাখ। এ ছাড়া, দারিদ্র্যের শিকার মানুষের ৮৩ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় পুষ্টি, বাসস্থান ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বঞ্চনার বড় একটি অংশ কেন্দ্রীভূত। অঞ্চলটিতে প্রায় ১৫ কোটি দরিদ্র মানুষ এমন পরিবারে বসবাস করেন, যেখানে স্কুলে যাওয়ার বয়সী কোনো শিশু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। সামগ্রিক উন্নয়নের অগ্রগতি সত্ত্বেও এ অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাধা রয়ে গেছে।
ইউএনডিপির আঞ্চলিক হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার প্রায় ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া, আরও ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এ ধরনের দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছেন। আঞ্চলিক বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে জীবনযাত্রার মানের অবদান ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ, শিক্ষার ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যের ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানের ঘাটতি পরস্পরকে আরও জটিল করে তোলে। অসুস্থতা, অপর্যাপ্ত শিক্ষা এবং নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও মানসম্মত বাসস্থানের অভাব পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্যের চক্রে আটকে রাখতে পারে।
ইউএনডিপির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, "দারিদ্র্য বৃদ্ধির ঘটনা বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।" তাঁর ভাষায়, "১২০ কোটি মানুষ এমন দুর্ভোগের মুখে রয়েছেন, যেখানে ক্ষুধা, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং নিরাপদ পানি ও বিদ্যুতের অভাব একে অপরের সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে।" তিনি এ পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তথ্যসূত্র: দ্য ডন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন