প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র পশু হাসপাতালের মোড়ে বহুল আলোচিত ও নৃশংস কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁন (১৯) হত্যা মামলার প্রধান আসামি দুর্র্ধষ কিশোর গ্যাং নেতা নাহিদ হাসানকে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদেরকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী শুইলপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, যখন তারা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি নাহিদ হাসান (২৫) সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে এবং তার সহযোগী সন্দিগ্ধ আসামি অমিত হাসান (৩০) একই এলাকার হুমায়ুন কবীরের ছেলে। এর আগে পুলিশ এই মামলার ২ নম্বর আসামি মোহিত হাসান বনি (২০)-কে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় মোট দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত ২ অক্টোবর (শুক্রবার) দিবাগত রাতে শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে কদমগাছতলা এলাকার একটি চায়ের দোকানে নাহিদসহ তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যায়। দ্রুত চা পরিবেশনকে কেন্দ্র করে দোকান মালিক রবিউল ইসলামের সঙ্গে তাদের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় রবিউলের প্রতিবেশী ভাইপো বাপ্পী হাসান প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাকে মারধর করে এবং ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
ঐ পথ দিয়ে যাওয়ার সময় কাটিয়া এলাকার রুচিরা বেকারির স্বত্বাধিকারী আব্দুল গফুর খাঁনের ছেলে কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁন বাপ্পীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। তখন আসামিরা জাকারিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে নাহিদ হাসান ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুকে আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাকারিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শাহারিয়ার খাঁন বাদী হয়ে শনিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ছাড়াও ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—মো. আরিজুল ইসলাম, ছোট ময়না, মো. জুয়েল, মো. সাগর, মো. জাকির হোসেন রনি, মো. সামি, মো. নাঈম, রাশিদুর জামান রাশেদ, মো. হুজাইফা, মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ ও মোহিত হাসান বনি।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ঘাতক নাহিদকে ধরিয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরষ্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সীমান্তে অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা, কালিগঞ্জ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে সীমান্তবর্তী শুইলপুর গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি নাহিদ ও তার সহযোগী অমিত হাসানকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত নাহিদ হাসান এলাকায় এক আতঙ্কের নাম। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাচেষ্টা, ছিনতাই ও সহিংসতার মামলা রয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলারও প্রধান আসামি এই নাহিদ।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাহিদের চাচা নাসির উদ্দীন। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করতেই তাদের পরিবারকে জড়ানো হচ্ছে এবং ঘটনার সময় নাহিদসহ পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ থাকলে আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে তিনি জানান।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার জানিয়েছেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন