প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে একটি মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গোপনে এক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর, মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের রোষানলে পড়ে তিনি মাদরাসা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে নাগেশ্বরী উপজেলার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসায়। অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসাটির সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী এবং সভাপতি আনোয়ার হোসেন ১৬ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে গোপনে চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারীকে (অফিস সহায়ক) নিয়োগ দিয়েছেন।
মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা গত ৬ অক্টোবর নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় কমিটির সদস্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ওই দিন সুপার খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীকে মাদরাসার অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে তিনি কৌশলে মাদরাসা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। গত বুধবার থেকে তিনি আবারও মাদরাসায় উপস্থিত হননি এবং বাড়িতেও পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি সাড়া দিচ্ছেন না।
এদিকে, মাদরাসার বিধি লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দাবি করে গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদরাসাটির শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক সদস্যরা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ভুয়া রেজল্যুশন তৈরি করেন। ওই রেজল্যুশনে তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও তিনজন অভিভাবক কমিটির সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক পদপ্রার্থী নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিলের কাছ থেকে গোপনে ১৬ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন তারা।
এছাড়া, সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী মাদরাসাটিতে যোগদানের পর থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে এর আগেও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
এ অনিয়মের ঘটনায় মাদরাসার সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, "কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তাদের স্বাক্ষর জাল করে এ ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।" তারা এ অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
মাদরাসার সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, "২৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগ বোর্ড গঠন করে প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ডিজির প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।"
কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন