প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার লালমোহন উপজেলার ওয়েস্টার্নপাড়া ডাকবাংলো সড়কে লালমোহন মেইন বাজার চৌরাস্তা সংলগ্ন একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সংস্কার ও নিরাপদ চলাচলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ওই সেতুর ওপর ‘আমরা ওয়েস্টার্ন পাড়া এলাকাবাসী’র ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ডাকবাংলো এলাকার এই সেতুটি অপরিকল্পিত ভাবে নির্মাণ করায়, অতিরিক্ত উঁচু হওয়ায় যাত্রীবাহী যানবাহন, অনেক সময় মানুষ পায়ে হেঁটে উঠতে সমস্যা হয়। বেশী উচু হওয়ার কারণে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীচের দিকে পড়ে গিয়ে প্রতি নিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। এই কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুর ঢাল বেশি হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে এবং অনেক মানুষ আহত হয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন যে, সেতুটি অত্যন্ত উঁচু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী, পথচারী এবং যানবাহন চলাচলকারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে এই সেতুতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং অনেক মানুষ আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সেতুর অদূরেই একটি কামিল মাদ্রাসা অবস্থিত, যেখানে অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে। সেতুটির অতিরিক্ত উচ্চতা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতামূলক অবকাঠামোর অভাবের কারণে শিক্ষার্থীরা সবসময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে। সেতুর পাশেই লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা অবস্থিত। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকে। ইতোমধ্যে এই সেতুতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং অনেক মানুষ আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন হলো, যেকোন উন্নয়ন মানুষের কল্যাণে হয় অথচ অপরিকল্পিত এই সেতুটির নির্মাণের ফলে জনদূর্ভোগ বেড়েছে। তাহলে এ সেতুটি কাদের স্বার্থে নির্মাণ করা হয়েছে? দ্রুত সেতুটি সংস্কার করে এলাকার বাসীর চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোশারফ হোসাইন, লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল হক, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. আমজাদ হোসেন আলম, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার সেলিম, এবং ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যাপক মো. কামাল হোসেন শাহিন, লালমোহন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান প্রমুখ।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. কবির মিয়া, পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নিয়াজ মাহমুদ কাজী সাইফুল্লাহ, মাদ্রাসার অধ্যাপক মাওলানা ফিরোজ মাহমুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা উন্নয়ন সভায় আলোচনা করে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করেছেন। আশা করছি শ্রীগই সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাইদুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সওজ সেফটি ডিভিশনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি সেতুর উপর দুই পাশে বিভিন্ন যানবাহন ও দোকান না বসিয়ে চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে নজর রাখার দাবি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন