প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডলারের দাম আবারও বাড়ছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে আমদানি খাতে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায়। আর খোলাবাজার ও ব্যাংকের নগদ লেনদেনে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে আমদানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ ও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। জুলাই মাসের শুরু থেকেই ডলারের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, মাসের শুরুতে প্রতি ডলারের দাম প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৫ পয়সা করে বাড়ছিল। তবে শেষ সপ্তাহে এক লাফে দাম বেড়ে যায় ৫০ পয়সা। এর সাথে তাল মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর বিক্রয়মূল্যও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে আমদানি খাতে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে খোলাবাজার ও ব্যাংকের নগদ লেনদেনে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রফতানি আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও আমদানি কার্যক্রম বেড়েছে। ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে এর দামও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হার নির্ধারণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতেই বাজারে ডলারের দাম নির্ধারিত হয়। তবে কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের দাম বাড়ার পেছনে শুধু আইএমএফের পরামর্শ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতাও বড় ভূমিকা রাখছে। এর ফলে উচ্চমূল্যে ডলার কিনে আমদানি করতে হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি; সবই আমদানি করে। তাই ডলারের দাম বাড়লে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। ১৫, ২০ বা ৩০ পয়সা বৃদ্ধি হয়তো বড় সমস্যা নয়। কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে এই সামান্য বৃদ্ধি বড় প্রভাব ফেলে এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক সূচক। এখন নজর রয়েছে ডলারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হয় এবং এর প্রভাব বাজার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা পড়ে সেদিকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন