প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি মন্তব্য করেছেন যে, ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান, জাতীয় স্বাধীনতা এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আলজেরীয় বিপ্লব বিশ্বরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ১৩২ বছরের ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার জনগণের দীর্ঘ সংগ্রাম কেবল দেশটির স্বাধীনতা অর্জনে সহায়ক হয়নি, বরং এটি আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন মুক্তিকামী আন্দোলনকেও অনুপ্রাণিত করেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বরের আলজেরীয় বিপ্লব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এই সম্মেলন আলজেরিয়ার নভেম্বর বিপ্লবের ৭২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৩২ বছরের ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার জনগণ সাহস, আত্মত্যাগ ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মুক্তির সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৬২ সালের জুলাইয়ে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে আলজেরিয়া দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলস্বরূপ মুক্ত হয়। এই সংগ্রাম বিশ্বব্যাপী ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইরত মানুষের কাছে আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের চতুর্থ প্রজাতন্ত্রের পতন এবং পঞ্চম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পেছনে আলজেরীয় যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এছাড়াও, জাতিসংঘের ১৯৬০ সালের ১৫১৪ নম্বর সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃতির প্রক্রিয়ায় আলজেরীয় সংগ্রামের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, স্বাধীনতার পর আলজেরিয়া আন্তর্জাতিক মুক্তি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ও কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে দেশটি ‘বিপ্লবীদের মক্কা’ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে। এ সময় ফ্রান্তজ ফ্যানন এবং জ্যঁ-পল সার্ত্রের মতো চিন্তাবিদদের অবদানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাদের লেখালেখিতে ঔপনিবেশিক নিপীড়ন, নির্যাতন, মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন আন্তর্জাতিক পরিসরে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, আত্মত্যাগ, মর্যাদা ও জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের মূল্যবোধ বাংলাদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে সংহতি, শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা। তিনি বলেন, আলজেরীয় বিপ্লব কেবল একটি স্বাধীনতাযুদ্ধ ছিল না, বরং এটি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন রাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংগ্রাম ছিল। ১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বর ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের (এফএলএন) নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই বিপ্লব ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং আফ্রো-এশীয় সংহতি জোরদারে ভূমিকা রাখে। কূটনৈতিক তৎপরতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন দেশের সমর্থনে আলজেরিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্ন জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন