প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামালপুরের সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদাম এখন জিম্মিদের মত হয়ে পড়েছে। উপজেলা খাদ্য বিভাগ, কিছু চাতাল ও রাইস মিল মালিক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মিল সংশ্লিষ্টরা এই অভিযোগ তুলেছেন। তারা দ্রুত জেলা খাদ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মিল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জামালপুরের লিংকন মিয়া নামে এক চাল কালবাজারী ২/৩ জন মিলে সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদামে যাতায়াত শুরু করেছে। যাতায়াতের পর থেকে তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা অবৈধভাবে সুবিধা আদায় করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। এমনকি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের চাল কম দামে সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছেন। একদিকে সরকার বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে প্রকৃত সচল মিল ও সৎ মিলাররা ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর রাতে সদর উপজেলার ৫ নম্বর ইটাইল ইউনিয়নের দমদমা বকুলতলা বাজারে মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকনের রাইস মিলের উপর অভিযানে ৩৯৮ বস্তা (প্রায় ২০ মেট্রিক টন) সরকারি চাল ও ৩৬০টি খালি বস্তা জব্দ করে মামলা দায়ের করেছিল র্যাব। লিংকন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের চাল সরকারি বস্তা থেকে সরিয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছেন। সম্প্রতি জামালপুর শহরে র্যাবের অভিযানের পর তারা উপজেলা গুলোতে টার্গেট করে চাল কালোবাজারী করে আসছেন। বর্তমানে তারা সরিষাবাড়ী উপজেলায় গুদামে বিভিন্ন কৌশলে একটি রাইস মিলের নামে ব্যবসা করে চলেছেন। তাদের প্রতি নজর রাখতে জামালপুর র্যাব ১৪ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকারবাসী।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার এসআরএফ অটো রাইচ মিলের স্বত্তাধিকারী লাঞ্জু মিয়ার সাথে জামালপুরের চাল কালোবাজারী লিংকন ও ২/৩ জন মিলে জেলা খাদ্য বিভাগ থেকে দুই কিস্তিতে বরাদ্দ নিয়ে ১২৮ টন ধান সংগ্রহ করে ধান ভাঙিয়ে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। তারা প্রথম কিস্তিতে ৬৪ টন ধান ভাঙিয়ে চাল দিয়েছেন গুদামে। পরবর্তীতে ২য় কিস্তিতে আরো ৬৪ টন বরাদ্ধ নেন। তারা চাল দিতে সময় কালক্ষেপণ করছেন। পাশাপাশি তারা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকেও সরকারি চাল ক্রয় করে আবার সেই চাল গুদামে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তথ্য রয়েছে। চালের গুণগত মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এদিকে স্বস্তিকা রাইচ মিলের মালিক তুষার বাবুর প্রতিষ্ঠানেও ৬৪ টন ধান বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই বরাদ্দের ধান তিনি নিজ খরচে জামালপুর সুজার মিল থেকে শুটার করে চাল গুদামে দিবেন বলেও জানা যায়।
উল্লেখ্য যে, যদি নিজস্ব তহবিল থেকে শুটার করে চাল গুদামে সরবরাহ করার নির্দেশনা আইনে রয়েছে। পাশাপাশি যদি কোন উপজেলার ধান সাটাই করতে রাজি না থাকে অথবা সাটাই এর ব্যবস্থা না থাকে তাহলে জেলার নিকটস্থ যে কোন স্থানে সাটাই এর নীতি মালা রয়েছে। তবে এ খরচও প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হবে। এতে পরিবহন সাশ্রয় হবে এবং পাশাপাশি সরকার লাভবান হবে।
এদিকে অভিযুক্ত চাল কালোবাজারী লিংকন মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে স্বস্তিকা রাইচ মিলের স্বত্তাধিকারী তুষার বাবু জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান শুটার করার জন্য সুজার মিলে পাঠানো হয়েছে। একটি কু চক্রি মহল সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা রুবিনা আক্তার জানিয়েছেন, আমরা ডিও পেয়ে ধান দিয়ে থাকি। আর সিন্ডিকেটের বিষয়ে নজর রাখা হবে।
এদিকে জামালপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আসাদুজ্জামান জানান, সিন্ডিকেটের বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ধান সাটাই এর কিছু আইনী নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠান চাইলে তারা তাদের নিজস্ব খরচ ব্যয় করে ধান সাটাই করে গুদামে দিতে পারবে বলে আইনে বলা আছে। এতে সরকার লাভবান হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন