প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুথি বিদ্রোহী এবং সউদী সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিমান হামলা, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের ভয়াবহতার কারণে হাজার হাজার ইয়েমেনি নাগরিক লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিচ্ছেন, জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR)-এর তথ্যমতে, লোহিত সাগর উপকূলে নতুন করে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার ফলে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সম্প্রতি ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দিকে হুথিরা অগ্রসর হওয়ার পর সউদী সমর্থিত বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে। জবাবে হুথিরাও সউদী আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
প্রাণ বাঁচাতে সমুদ্র পাড়ি
ইয়েমেনের উপকূলীয় শহর ধুবাব থেকে নিজের ডিঙ্গি নৌকায় পরিবার নিয়ে জিবুতির ‘মারকাজি’ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৫০ বছর বয়সী জেলে ইব্রাহিম ঈসা। তিনি বলেন, “যখন বিমানের বিকট শব্দ শুরু হয়, তখন শিশুরা আতঙ্কে চিৎকার ও কাঁপুনি শুরু করে। বাবা-মা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তাদের রক্ষা করা। তাই সন্তানদের বাঁচাতে গৃহহীন হয়ে এখানে পালিয়ে এসেছি।”
শিবিরে শতবর্ষী বৃদ্ধ কাসিম আব্রাহাম আবসি বলেন, “কোন পক্ষ হামলা চালাচ্ছে তা আমরা জানি না। আকাশে বিমান আসে আর চারপাশে বোমা ফেলে। শিশুদের সুরক্ষার জন্যই আমাদের এই জীবনযুদ্ধ।”
জিবুতির পরিস্থিতি
ইয়েমেনের ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থিত ছোট দেশ জিবুতি এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র কয়েক দিনে প্রায় ৩,০০০ ইয়েমেনি শরণার্থী জিবুতির মারকাজি শিবিরে এসে পৌঁছেছেন। অনেকে পরিধানের কাপড় ছাড়া আর কিছুই সাথে আনতে পারেননি।
২০১৪ সাল থেকে চলা এই রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর আবারও দুই পক্ষের সংঘাত চরম রূপ নিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন