প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১০ জুন, ২০২৬ : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠী হাজার হাজার মানুষকে তাদের বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য বাধ্য করেছে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি অভিযোগ করেছে যে, বেসামরিক নাগরিক ও যুদ্ধবন্দীদের অমানবিক অবস্থায় আটক রেখে রেখেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। খবরটি এসেছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।
সংস্থাটি বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০২১ সালে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পর থেকে সরকার বিরোধী এই গোষ্ঠী পূর্বাঞ্চলে বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে। এখানে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত চলমান রয়েছে।
এম২৩ গোষ্ঠী জানিয়েছে, গোমা ও বুকাভু শহর দখলের পর তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় ‘ব্যাপকভাবে জোরপূর্বক তাদের বাহিনীতে নিয়োগ ও অন্যান্য অভিযান’ চালানোর কাজ শুরু করেছে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, তারা কঙ্গোর হাজার হাজার সেনা ও মিলিশিয়া সদস্যকে আটক করেছে। পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদেরও আটক করছে। তাদের অনেকে অমানবিক ও প্রাণঘাতী অবস্থায় রয়েছে।
এইচআরডব্লিউ জানায়, এই প্রতিবেদনটি ১০২ জন সাবেক বন্দি ও আরও বহু সূত্রের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাবেক বন্দিরা অভিযোগ করেছেন, মানুষকে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, সভা, গির্জা ও স্কুল থেকে অপহরণ করে অস্থায়ী আটককেন্দ্র, সামরিক ক্যাম্প বা অজ্ঞাত স্থানে রাখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, কিছু বন্দির মধ্যে ১২ বছর বয়সী শিশুও ছিল। তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা সামরিক ক্যাম্পে নেওয়া হচ্ছে এবং সেখানে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী অমানবিক অবস্থায় রাখা হচ্ছে। ঐ সময়ে তাদের মারধর ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
এমনকি এই বন্দিদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, এম২৩ যোদ্ধা ও রুয়ান্ডার সেনারা হাজার হাজার মানুষকে প্রাণহানির ভীতির মাধ্যমে তাদের দলে যোগ দিতে বাধ্য করছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বন্দিদের মারধর ও ভয়াবহ অত্যাচার করা হচ্ছে। এসময় তাদেরকে পানি বা খাবার প্রদান করা হচ্ছে না, যার ফলে অনাহারে অনেকের প্রাণও চলে গেছে।
এইচআরডব্লিউ জানায়, ক্যাম্পগুলোতে মোট কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব হবে কেবল তখনই, যখন সমস্ত গণকবর সঠিকভাবে উন্মোচিত হবে। তবে সাবেক বন্দিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালে শত শত, সম্ভবত তারও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০২৬ সালেও এসব ক্যাম্পের কার্যক্রম চলছে। সাবেক বন্দিরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পগুলোতে উচ্চপদস্থ এম২৩ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও আশপাশে রুয়ান্ডার সামরিক ইউনিটগুলোর অবস্থান শনাক্ত করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন