প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রায় ৩০ বছর আগে ঘটেছিল একটি ঘটনা। একটি পোশাকের দোকানের চেঞ্জিং রুমে ভয়ংকর এক ঘটনা ঘটে। আর এই ঘটনার চারপাশে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে শুরু হয় অন্যতম আলোচিত এক আইনি লড়াই। তিনি বহুবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আপিল আদালতে গিয়েছেন, এমনকি পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টেও। তবে শেষ পর্যন্ত এড়াতে পারেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির দায়ে কলাম লেখক ই. জিন ক্যারলকে ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছেন।
এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আদালতের নির্ধারিত ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং গত তিন বছরে জমা হওয়া সুদ। ক্যারলের আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে এ অর্থ পাওয়ার বিষয়টি হয়েছে। ফোর্বস সাময়িকীর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনার সূচনা ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে। ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক বদলানোর কক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছেন। দীর্ঘদিন পরে ২০১৯ সালে তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। কিন্তু ট্রাম্প শুরু থেকেই এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
এরপর ২০২২ সালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ক্যারলকে নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ক্যারলের অভিযোগ, সেই পোস্ট তাঁর মানহানি করেছে। এরপর দুটি বিষয় সংক্রান্ত আইনি লড়াই শুরু হয়। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি সর্বসম্মতিক্রমে রায় দেয় ক্যারলের পক্ষে। আদালত ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়। তবে ট্রাম্প সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে থাকেন। এমনকি মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করেন তিনি।
কিন্তু গেল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আবেদন রিজেক্ট করেছে। এর ফলে কার্যত ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। পরে আদালতের নির্দেশে অবশেষে সেই অর্থ ক্যারলের হাতে পৌঁছেছে।
বর্তমানে ই. জিন ক্যারলের বয়স ৮২ বছর। ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার পর তাঁর আইনজীবীরা বলেন, জুরির দেওয়া রায় অনুযায়ী তিনি তাঁর প্রাপ্য অর্থ পেয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের আইনজীবীরা এখনো এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন। তবে এখানেই শেষ নয়। ২০২৪ সালে আরেকটি মানহানির মামলায় ক্যারলকে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল জুরি বোর্ড। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ফেডারেল আদালত সেই আপিলও খারিজ করে দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন