প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকার একটি গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আগুনের তাপে প্রায় অর্ধশতাধিক অটোরিকশা পুড়ে গেছে। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে, বাবুবাজার ব্রিজের নিচে অবস্থিত ওই গ্যারেজে এই অগ্নিকাণ্ডের শুরু ঘটে।
গ্যারেজে দুপুরের খাবার খেতে আসা ড্রাইভাররা জানায় যে, তারা গাড়ি বন্ধ রেখে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক তখনিই হঠাৎ করে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ২-৩ মিনিটের মধ্যে আগুন পুরো গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্র কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধাঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চালক ও মালিকরা জানায়, অনেকেই ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কিনেছিলেন। এই অটোরিকশাগুলি তাদের পরিবারগুলোর একমাত্র আয়ের উৎস ছিল। এখন এই আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
এক ক্ষতিগ্রস্ত রিকশাচালক বলেন, "গ্রাম থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কিনেছিলাম। এই গাড়ি চালিয়েই ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালাতাম। দুপুরে গ্যারেজে গাড়ি চার্জ দিয়ে খাবার খেতে গিয়েছিলাম। এসে দেখি সব পুড়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা কিভাবে শোধ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না।"
রিকশাচালক মিলন জানান, "দুপুরে আমরা কয়েকজন খেতে আইছিলাম। এমন সময় গ্যারেজের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে আমরা চমকে যাই। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে। তখন আমরা প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়ে গ্যারেজ থেকে বের হয়ে যাই।"
কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, "খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। গ্যারেজটিতে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল। এ ছাড়াও অগ্নিনির্বাপণের তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানানো যাবে।"
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজিদ-উল-মাহমুদ জানান, "ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের পৃথক তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ঘটনার পর গ্যারেজের ম্যানেজার বাদশা ও ইনচার্জ দুলাল পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন