প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীতে খাবার কেনাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে হামলা ও ভাঙচুর। একই মালিকানাধীন দুটি রেস্তোরাঁর নাম ‘বাংলা টিফিন’ ও ‘বঙ্গভোজ’। শুক্রবার (১৯ জুন) রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার সময়ে দুর্বৃত্তদের হাতে লাঠি, ছুরি, রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নজরে আসে। এ ঘটনায় মতিহার থানার এক কনস্টেবল আহত হন। আহত কনস্টেবলের নাম ফয়েজ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় রমজান খাবার কিনতে বাংলা টিফিনে যান। খাবার পরিবেশনে বিলম্ব হওয়ায় হোটেলের এক কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর রমজানের অনুসারীরা ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাংলা টিফিন এবং মণ্ডলের মোড় এলাকার বঙ্গভোজ রেস্তোরাঁয় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কনস্টেবল ফয়েজ আহত হন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন, বলেন, "বন্ধুদের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ ৩০ থেকে ৪০ জন এসে বাংলা টিফিনে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের হাতে লাঠি, ছুরি ও চাপাতি ছিল। তারা চারটি ককটেল ফাটিয়ে দেয়।" আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সম্ভবত খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে একটি কর্মচারীর সঙ্গে ক্রেতার কথাকাটাকাটি হয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা তখন বাংলা টিফিনের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর শোরগোল শুনে দেখতে যাই, কয়েকজন দোকানের কর্মচারীদের বাইরে এনে ঝামেলার কারণ জানতে চাইছেন। অভিযুক্ত কর্মচারীকে না পেয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়।"
এ বিষয়ে বাংলা টিফিন ও বঙ্গভোজের মালিক মুর্শেদ সাকিল বলেন, "আমি এখন বাইরে আছি। আমার দুটি প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। ধারণা করছি, কিছু স্থানীয় লোক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। আমি বিব্রত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
ঘটনার বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর জানান, স্থানীয় রমজান নামের এক ব্যক্তি খাবার কিনতে এসে একটি প্যাকেট গ্রহণ করেন এবং আরেকটি প্যাকেট প্রস্তুত করতে ২০ মিনিট সময় লাগবে বলা হয়। এতে তিনি উত্তেজিত হয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি আরো বলেন, "আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি, কিন্তু এর আগেই তার অনুসারীরা হামলা চালায়।"
ওসি এক পুলিশ সদস্যের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলছেন, ঘটনার সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ফয়েজ নামের কনস্টেবল আহত হন। অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় রমজানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন