প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক যুগ আগে নারকেলের ছোবড়া ছিল একটি অবহেলিত উপকরণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়া হতো, আর কিছু মানুষ এটি রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। কিন্তু সেই অবহেলিত ছোবড়া এখন লক্ষ্মীপুরের অর্থনীতির চিত্র পরিবর্তন করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে এটি আজকাল একটি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। ছোবড়া থেকে তৈরি বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর জেলায় গড়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৩০টি কারখানাকে ঘিরে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে। জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলায় নারকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ ও গুঁড়া তৈরি হয়। নারকেলের আঁশ (ফাইবার) থেকে তৈরি হচ্ছে জাজিম, গদি, দড়ি, স্লিপার (জুতা), খেলনা ও শৌখিন সামগ্রী। ফাইবার তৈরির সময় প্রচুর গুঁড়াও উপজাত হিসেবে উৎপাদিত হচ্ছে। এই গুঁড়া বা কোকোডাস্ট কৃষিকাজে ব্যবহার হচ্ছে। যেসব বাগানে মাটির অভাব রয়েছে, সেখানে এসব গুঁড়ার ব্যবহার হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে নারকেলের বাগান প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এছাড়া, অধিকাংশ প্রতিটি বাড়ির আঙিনাতেই নারকেল গাছ দেখা যায়। শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল সংগ্রহ করার পর তা ছুলে ছোবড়া ফাটানোর কাজ করা হয় কারখানায়। প্রতিটি কারখানা থেকে মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকার ছোবড়া বিক্রি করা হয়। প্রতিটি কারখানায় ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক নিয়োজিত আছেন।
জেলা বিসিক শিল্প নগরীর উপব্যবস্থাপক ফজলুল করিমের মতে, লক্ষ্মীপুর নারকেল, সুপারি এবং সয়াবিনের জন্য বিখ্যাত। তবে নারকেলের ছোবড়াও একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবেও মাথায় রাখতে হবে। এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৩০ জন উদ্যোক্তা জড়িত আছেন। উদ্যোক্তারা যদি বিসিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা, প্রশিক্ষণ প্রদানসহ শিল্প নিবন্ধনের আওতায় এলেও পারবেন। বিসিকের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখলে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলেও এই কর্মকর্তা জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন