প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়ে গেছে। তবে রংপুর বিভাগে এখনো বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা না দিলেও ভবিষ্যতে তা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা এবং এডিস মশার বিস্তার বাড়ছে। এজন্য রংপুরেও সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে এখনই সমন্বিত মশা নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় ডেঙ্গু সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৪৪ জনের শরীরে।
এর মধ্যে রংপুরে ১১ জন, গাইবান্ধায় ১০ জন, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে আটজন করে, দিনাজপুরে চারজন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ে ৩৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে কম হলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা এবং অন্যান্য আক্রান্ত এলাকা থেকে যাতায়াতের মাধ্যমে ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার বিস্তার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এবার ডেঙ্গু কেবল বড় শহরের রোগ নয়; পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এটি জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বছরের বিভিন্ন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে রংপুর বিভাগের আট জেলায় মোট ২৬৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। এর মধ্যে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৪৭ জন এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া নীলফামারীতে ৩২ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ জন, পঞ্চগড়ে ৯ জন, লালমনিরহাটে সাতজন, কুড়িগ্রামে চারজন এবং গাইবান্ধায় দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিভাগে ডেঙ্গুর বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই বছর আক্রান্ত হন পাঁচ হাজার ৪৯৪ জন এবং মারা যান ১২ জন। মৃতদের মধ্যে দিনাজপুরে পাঁচজন, রংপুরে চারজন, গাইবান্ধায় দুজন এবং লালমনিরহাটে একজন ছিলেন। একই বছরে রংপুর জেলায় এক হাজার ২৯৫ জন আক্রান্ত হন, যার মধ্যে স্থানীয়ভাবে ৪৬০ জন সংক্রমিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এক হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে দিনাজপুরে ৩৪৪ জন, নীলফামারীতে ৩০১ জন, কুড়িগ্রামে ২১৭ জন, রংপুরে ১৯৭ জন, গাইবান্ধায় ১৪৬ জন, পঞ্চগড়ে ১১৮ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৭ জন এবং লালমনিরহাটে ৬৩ জন আক্রান্ত হন। ওই বছর গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে একজন করে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় এক হাজার ১৮৭ জনে এবং ওই বছর ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর চাপ বাড়লে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি রয়েছে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হবে।
এদিকে, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন বলেন, ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গত ২৫ জুন থেকে মাসব্যাপী বিশেষ মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। নগরীর প্রত্যেক ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ ছিটানো এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।’
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, বাড়ির আশপাশে ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব, পানির ট্যাংক অথবা কোনো পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেয়া যাবে না। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা কিংবা চোখের পেছনে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণই রংপুরকে ডেঙ্গুর বড় প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘রংপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত দেড় বছরে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। তবে বর্ষকালে ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশারি ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।’
উপপরিচালক আরো বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগী বাড়লে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে। রক্ত পরীক্ষার কিটসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামেরও কোনো ঘাটতি নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন