প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক জুন মাস অতিবাহিত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০১ সাল থেকে বৃষ্টি পরিমাণের হিসাব রাখা শুরু করার পর এটি পঞ্চম সবচেয়ে শুষ্ক জুন মাস ছিল। এক্ষেত্রে, জুলাই মাসেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পূর্বাভাস ঘোষণা করা হয়েছে, যা কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ বৃদ্ধি করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রকাশিত তথ্যে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কমে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ধান চাষে। এই বছরের শুরুতে, ধানের আবাদ প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছে।
ভারতের প্রধান গ্রীষ্মকালীন ফসলের অন্তর্ভুক্ত ধান, ডাল, মোটা শস্য, তৈলবীজ, তুলা, আখ এবং পাট। এগুলোর বড় অংশই মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। তবে এ বছর বর্ষা তিন দিন দেরিতে শুরু হয়েছে এবং পশ্চিম ভারতের কিছু অঞ্চলে প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য বৃষ্টির অগ্রগতি ধীর ছিল। এই কারণে অনেক অঞ্চলে জমি প্রস্তুতি ও বীজ বপনে বিলম্ব ঘটে।
ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল দুই কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর।
ধানের চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই বছরের জন্য, এখন পর্যন্ত ২৫ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩৪ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর।
ভারতের কৃষিজমির প্রায় অর্ধেক অংশে সেচের স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। তাই এসব জমি পুরোপুরি বর্ষার বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল থাকে। এ কারণে যদি সময়মতো বৃষ্টি না হয়, তাহলে কৃষি উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, কম বৃষ্টির কারণে তৈলবীজ উৎপাদনও কমে যেতে পারে, যার ফলে ভারত ভোজ্য তেল আমদানির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
তবে মৌসুমি বৃষ্টি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। ফলে আগামী মাসগুলোতে যথেষ্ট বৃষ্টি হলে কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠার আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, সরকার জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই। সরকারি গুদামে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি ৯৭ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা প্রয়োজনীয় মজুতের প্রায় তিন গুণের মতো। এছাড়া, কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ধান মিলিং শেষ হলে আরও প্রায় দুই কোটি ৯৮ লাখ টন চাল মজুত হবে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, জুন মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টি হয়েছে। ১৯০১ সাল থেকে মাত্র চারটি জুন মাসে এতো কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
এখন আমাদের নজর জুলাই মাসের দিকে রয়েছে। কারণ বর্ষা মৌসুমের মধ্যে সাধারণত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি জুলাই মাসে হয়ে থাকে এবং এই সময়ে অধিকাংশ ফসলের বীজ বপন সম্পন্ন হয়।
সম্ভাব্য দুর্বল বর্ষা এবং এল নিনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার ইতোমধ্যে প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কম বৃষ্টিপ্রবণ ৩১৫টি জেলা চিহ্নিত করে সেখানকার জন্য স্বল্পমেয়াদি ফসল, কম পানি ব্যবহৃত হয় এমন জাত এবং পানি সংরক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারতের কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বিবিসিকে জানিয়েছেন, সংকটের জন্য অপেক্ষা না করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এখনও ঝুঁকির সম্মুখীন হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন