প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
“ভারত খুব শক্তিশালী। আপনি কি ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি দেখেছেন? দেখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থার কতটা উন্নতি হয়েছে”– সীমান্তে চলতে থাকা ভারত-চীন সংঘাত পরিস্থিতি সম্পর্কে ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) প্রধান শত্রুজিৎ সিং কপূরের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এভাবেই জবাব দিয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রী এবং বিজেপি বিধায়ক বালো রাজা।
বালো রাজা বলিউডের স্পাই-থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার উদাহরণ তুলে ধরে ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থার সক্ষমতা বোঝাতে বলেন। তার এই বক্তব্য নতুন আলোচনা শুরু করেছে। কারণ, সম্প্রতি আইটিবিপি-র ডিজি অরুণাচল সীমান্তে চীনা সেনার সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর সংঘাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি চীনের সামরিক আধুনিকীকরণের সাথে পাল্লা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।
বালো রাজা, যিনি অরুণাচল প্রদেশের তিনবারের বিজেপি বিধায়ক, রাজ্য সরকারের নগরোন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং অসামরিক বিমান পরিবহন দফতরের দায়িত্বও পালন করছেন। তিনি গত মঙ্গলবার ইটানগরে সাংবাদিকদের সামনে প্রশ্ন তোলেন, কেন আইটিবিপি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর প্রধান এমন মন্তব্য করবেন, যা ভারতকে দুর্বল বলে প্রতিস্থাপন করতে পারে? তার বক্তব্য ছিল, ভারতের শক্তি এবং গোয়েন্দা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, যা ‘ধুরন্ধর’ ছবিটি দেখলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গত ২২ অক্টোবর রাজস্থানের আলওয়ারে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে আইটিবিপি-র ডিজি শত্রুজিৎ সিং কপূর জানান, অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় ও চীনা সেনার মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তার মতে, জুলাই থেকে এই উত্তেজনা চলমান এবং সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় দুই দেশের বাহিনী মুখোমুখি অস্ত্র তাক করে রয়েছে।
কপূর আরও বলেন, ‘চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবং বর্ডার ডিফেন্স রেজিমেন্ট (বিডিআর) সামরিক পরিকাঠামো ও আধুনিকীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তাই চীনকে মোকাবিলা করতে ড্রোন এবং ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।’ তিনি জানান, আইটিবিপি-র প্রতিটি সীমান্তরক্ষী ব্যাটালিয়নে ড্রোন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অভিযানের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘শৌর্য’ কম্যান্ডোদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে।
আইটিবিপি প্রধানের মন্তব্যের পর ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। গত ২৩ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চীনা বাহিনী নিয়মমাফিক টহলদারি থেকে সরে এলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর পরিস্থিতি মাঝে মাঝে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তবে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ আগের মতোই রয়েছে। সীমান্তের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং দুই দেশের সেনার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাত এড়ানোই আলোচনার লক্ষ্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মন্তব্য করেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং এলাকায় ভারতীয় সেনার টহলদারি নিয়ে অতীতে উদ্বেগ ছিল। তবে ওই অঞ্চলে চীনের নতুন দখলদারির অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে বালো রাজার ‘ধুরন্ধর’ মন্তব্য ভারত-চীন সীমান্ত নিয়ে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন