প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৩ আসামি হেলাল, মহিউদ্দিন ও শাহীন আলম, যিনি শাকিল নামে পরিচিত, তাদেরকে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ৪ নম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক লুৎফুন্নাহার এই আদেশ দেন।
এর আগে, চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিঠামইন থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন ৩ আসামিকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। আদালত আবেদন শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৫ জুলাই রাতে পৌনে ১০টার দিকে, মিঠামইন উপজেলা সদরে বেড়িবাঁধ অঞ্চলের সামনে নিজের বাড়ির সামনে বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। সেসময় জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের সাথে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকেই কিশোরগঞ্জ সদরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে, দায়িত্বরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করে।
এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে গ্রেফতার হওয়া ৩ সন্ত্রাসীর নাম উল্লেখসহ আরও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মিঠামইন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কেন হত্যা হয়েছে, এর পেছনে কী কারণ রয়েছে?
১৫ জুলাই রাতে বিএনপির নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর খুন হন। ঘটনার ৪ দিন পরেও এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পেছনে নির্দেশদাতাদের পুলিশ চিহ্নিত করতে পারেনি।
পুলিশ, নিহতের স্বজন ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে মোটা অঙ্কের টাকায় পেশাদার কিলার ভাড়া করে বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের জামিনে মুক্ত করা হয়। হামলার সময় বিএনপি কর্মী হাদিস আহত হওয়ার পরেও হেলাল নামে একজন হত্যাকারীকে ধরে ফেলে।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হেলাল স্বীকার করে যে, জাহাঙ্গীরকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করা হয়েছে। তিনি জানান, খোকা নামে একজন ব্যক্তি তাদের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করে আনে।
হেলালের স্বীকারোক্তিমূলক এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকারম হোসেন খোকা গা ঢাকা দেন। খোকা নিহত জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন। পুলিশ বলছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা কলকাঠি নেড়েছে, কারা সন্ত্রাসী ভাড়া করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত কাজ চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠামইন থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, হত্যাকারীরা বহিরাগত। ঘটনার পরপরই আমরা তাদের ধরতে পেরেছি। এটি একটি ভাল দিক বলে তিনি মন্তব্য করেন। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা কারা, তা জানানো সম্ভব হতে পারে।
দ্রুতই হত্যার আসল কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বের করা সম্ভব হবে বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন