প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৫ জুলাই, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইসরাইলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ শুক্রবার মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে ভলকার তুর্কের মেয়াদ আরও চার বছরের জন্য নবায়ন করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদে ১৪৪টি দেশ সমর্থন দিয়েছে, ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। এই প্রক্রিয়ায় তুর্কের মেয়াদ নবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন মেয়াদটি শুরু হবে ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর থেকে।
এএফপি’র খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার পক্ষ থেকে তুর্কের মেয়াদমাত্র কয়েক মাস বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাখার বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তা বিপুল ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। একইভাবে, ভোট স্থগিত রাখার যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধও গ্রহণ করা হয়নি।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারবিষয়ক প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেফ বার্টোস চার বছরের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি প্রক্রিয়াগত ও নীতিগত—উভয় দিক থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং অভিযোগ করেন যে, গুতেরেস পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করেছেন।
ভোটের আগে বার্টোস সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো ভুল করবেন না: যদি এই পরিষদ পদ্ধতিগত বাড়াবাড়ি, গোপন আঁতাত এবং জাতিসংঘের পদের অপব্যবহার মেনে নেয়, তবে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে জাতিসংঘে তার সম্পৃক্ততা, অংশগ্রহণ এবং অর্থায়ন পুনর্বিবেচনা করবে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুতেরেস তাড়াহুড়ো করে সময়সূচি এগিয়ে নিয়েছেন, যাতে তার দীর্ঘদিনের বন্ধুকে চার বছরের নির্বাহী মেয়াদের সুবিধা দেওয়া যায়।
তবে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফোঁ ভলকার তুর্কের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি ‘বিবেকের কণ্ঠস্বর’। বোনাফোঁ বলেন, প্রথম মেয়াদে তুর্ক ‘দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে’ দায়িত্ব পালন করেছেন।
অস্ট্রিয়ার নাগরিক আইনজীবী ভলকার তুর্ক ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মানবাধিকারের সর্বজনীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
তার মেয়াদকালে তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন, গাজা যুদ্ধ, আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং নিকারাগুয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরব ছিলেন।
কিন্তু, কিউবা, চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের পরিস্থিতি এবং গাজা প্রসঙ্গে সরাসরি ‘গণহত্যা’ শব্দ ব্যবহারের অভাবের কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। জাতিসংঘের কিছু বিশেষজ্ঞ ও প্রতিবেদকরা এই ক্ষেত্রে ওই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
ভলকার তুর্কের অবস্থানের কারণে রাশিয়া ও ইসরাইলসহ কিছু দেশের সরকারের তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
শুক্রবার, রাশিয়া ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতরা তার মেয়াদ নবায়নের বিরোধিতা করেন। তাদের বক্তব্য ছিল যে, জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের শেষে শেষ হওয়ার কারণে মানবাধিকার কমিশনার নির্বাচনের বিষয়টি তার উত্তরসূরির উপরে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন