প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও ভূমির সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে শ্রমঘন ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের বিকাশ দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য একটি কার্যকর উপায়। সরকার আগামীতে এমন শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দেবে, যা কম মূলধন বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম।
আজ সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটক) কর্তৃক পরিচালিত কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ ও নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্প একসঙ্গে ব্যাপক পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। তাই, সরকার যে শিল্পখাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে, সেগুলোর মধ্যে এই খাত অন্যতম।
শিল্পমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের বিস্তার যত বাড়বে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদাও তত বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জন করে সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন—এটাই এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী দিনে এই প্রকল্পের আকার আরও বড় করা হবে এবং বিটাককে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে। শিল্পের ভবিষ্যৎ চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে বিটাকের প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের সব পর্যায়ে এবং সব পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে যাতে বিশ্ব শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা যায়। এ লক্ষ্যে, দেশ-বিদেশের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, "আপনারা প্রত্যেকেই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে উঠে এসেছেন। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করার দায়িত্ব আপনাদের নিজেদের।"
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, "শুধু একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। প্রশিক্ষণের সঙ্গে অব্যাহত শিক্ষা ও নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট রাখার মানসিকতা থাকতে হবে।"
বাংলাদেশের শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)-এর মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআইএম’র মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ, আরএফএল’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ, ম্যাটাডোর গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এইচ এমন আল মামুন বক্তৃতা দেন।
পরে মন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ এবং নিয়োগপত্র প্রদান করেন। উল্লেখ্য, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭২২ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৪২ জনের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন