প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটির কারণে রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরমুখো মানুষজন বের হতে শুরু করেছেন। এ কারণে বাস, ট্রেন এবং লঞ্চ স্টেশনে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
লম্বা এই ছুটির সুযোগে সোমবার বিকেল থেকেই সাধারণ মানুষ পরিবার নিয়ে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মব্যস্ত নগরজীবন পিছনে ফেলে আপনজনের কাছে ফেরার এই যাত্রায় অনেকের হাতে ব্যাগ রয়েছে, কেউ পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে যাচ্ছেন। সবার মুখে উৎসবের আনন্দ এবং বাড়ি ফেরার প্রত্যাশা স্পষ্ট।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগে অনেকেই আগেভাগে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ও আত্মীয়স্বজনের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে ছুটি শুরুর আগেই রাজধানীর বিভিন্ন গণপরিবহন কেন্দ্রে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে বাড়ি ফেরার তাড়া লক্ষ্য করা যায়। কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থানরত মানুষ ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে পূজার সময় কাটাতে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন।
রাজধানীর আরামবাগে কুমিল্লাগামী তিশা প্লাস বাস কাউন্টারেও যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। কাউন্টারে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি ছিল। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের যাতায়াত বেড়ে গেছে। তবে বাড়তি চাপ থাকলেও আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনেও যাত্রীদের বাড়তি উপস্থিতি দেখা গেছে। হাতে ব্যাগ, পরিবারের সদস্য এবং শিশুদের নিয়ে ট্রেন ধরার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে স্টেশনজুড়ে ছিল বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা। দীর্ঘ ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকে আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন, যাতে পূজার দিনগুলো স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে পারেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজা শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং পরিচিত পরিবেশে সময় কাটানোর উপলক্ষ। কর্মসূত্রে রাজধানীতে বসবাসকারী অনেকেই সারা বছর এমন ছুটির অপেক্ষায় থাকেন। পূজার প্রস্তুতিতে পরিবারের পাশে থাকা, মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা শৈশবের পরিচিত পরিবেশে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা তাদের বাড়ি ফেরার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে ছুটিকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গণপরিবহনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে।
দীর্ঘ পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানীর কর্মব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন। কেউ ফিরছেন গ্রামের বাড়িতে, কেউ যাচ্ছেন আত্মীয়স্বজনের কাছে। উৎসবের আনন্দ, পরিবারের সান্নিধ্য এবং আপনজনের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রত্যাশায় এই ঘরে ফেরা যেন কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাত্রা নয়; বরং শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া, সম্পর্কের বন্ধন নতুন করে অনুভব করা এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার একটি আবেগঘন উপলক্ষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন