প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অবশেষে দশম গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রাপ্তির সুযোগ পাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য প্রায় ১০ মাস পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি কার্যকর করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ থেকে এ আদেশটি জারি করা হয়। সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমাতুজ জোহরা এ আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১তম গ্রেডভুক্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস++ সফটওয়্যারে সংযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বকেয়া বেতন নিয়ে যা বলা হয়েছে
প্রধান শিক্ষকরা গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে দশম গ্রেড অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তবে নতুন আদেশে বকেয়া বেতন সম্পর্কিত স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি আদেশ (জিও) জারির তারিখের আগে কোনো আর্থিক বকেয়া প্রধান শিক্ষকরা পাবেন না। অর্থাৎ জিও জারির পূর্ব থেকে দশম গ্রেড কার্যকর ধরে যে বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে, তা পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।
২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর আদালতের রায়ের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১০ম করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে এতদিন নতুন গ্রেড অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী দশম গ্রেডে প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন ৩২ হাজার টাকা থেকে শুরু হবে। এ গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে দশম গ্রেডে মূল বেতন শুরু হতো ১৬ হাজার টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ ধাপ ছিল ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।
দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার পূর্বে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদ ছিল ১১তম ও ১২তম গ্রেডের মধ্যে। পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী ১১তম গ্রেডে মূল বেতন শুরু হতো ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে।
নতুন বেতন স্কেলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বর্তমানে তারা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে অবস্থান করছেন। নতুন বেতন স্কেলে এ গ্রেডে মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সহকারী শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বেতন গ্রেড ১৩তম থেকে ১১তম করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। তবে এ বিষয়ে বেতন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কমিশনের কার্যপরিধির মধ্যে পড়ে না।
এছাড়া, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম করার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ বিভাগেও পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বর্ধিত গ্রেডে বেতন দিতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজারের কিছু বেশি। বর্তমানে কর্মরত আছেন সাড়ে ৩ লাখের বেশি শিক্ষক। এর বাইরে সম্প্রতি প্রায় ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। তাদেরও আগামী ১১ অক্টোবর পদায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন