প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চরাঞ্চলে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এবার, তিস্তার ভাঙনের করাল গ্রাসে মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ‘মন্ডলপাড়া জামে মসজিদটি’ ই।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল বেলা তিস্তা নদীর প্রলয়ংকরী রূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বেড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে তিস্তা নদীর ভাঙন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর মধ্যে, মন্ডলপাড়া জামে মসজিদটি তিস্তার তীরঘেঁষে চরম ঝুঁকিতে ছিল। নদী ভাঙনের গতি এতই দ্রুত ছিল যে, ভিটেমাটি এবং মসজিদ রক্ষার কোনো সুযোগই পায়নি চরাঞ্চলের মানুষ। চোখের সামনে জুলাই মাসের বুধবার বিকেলে পুরো মসজিদ ভবনটি তিস্তার পেটে চলে গেছে।
চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার আলী আক্ষেপ করেছেন এবং বলেছেন, 'আমাদের একটাই প্রার্থনা ছিল ঘরবাড়ি যাক, অন্তত আল্লাহর ঘরটা যেন বেঁচে যায়।' কিন্তু রাক্ষুসে তিস্তা তাও কেড়ে নিয়েছে। এখন আমরা কোথায় নামাজ পড়বো?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছরই নদী ভাঙনে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। ভিটেমাটি, আবাদি জমি এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন শত শত পরিবার। অথচ ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ তারা এখনও দেখতে পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করা হলে চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের আরও বহু বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন