প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের জন্য ২০২৭ সালের হজে নির্ধারিত কোটা আরও ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত কোটার বাইরে ২০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন। এই হজযাত্রীরা হজ পালনের জন্য মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন। তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সৌদি সরকারের কাছে অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার এবং মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা, বর্ধিত কোটা, সৌদি আরবে আটকে থাকা মেডিকেল ফির টাকা ফেরত এবং হজযাত্রীদের প্যাকেজের বাকি টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় জানানো হয়, আগামী ১৫ মে ২০২৭ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি সরকার এ বছর বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশের মূল হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গত কয়েক বছরে হজযাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় সৌদি সরকার এই কোটা কমিয়ে দিয়েছে।
হাবের নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এবার হজযাত্রীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোটা পূর্ণ হওয়ার পরেও ২০ হাজারের বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের পরিবারের একাধিক সদস্য নিবন্ধন করতে পারলেও অন্যরা কোটার অভাবে অপেক্ষা করছেন। এ অবস্থায় অন্তত ২০ হাজার অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দ দেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপির প্রতি সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে হাব।
সংগঠনটির নেতারা জানান, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে ধর্মমন্ত্রীর সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা আশাবাদী যে, মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিলে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। যদিও মন্ত্রী এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন, তবে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীরা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাব জানায়, চলতি বছর সৌদি সরকার কোনো পূর্বঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই মেডিকেল ফির নামে বাংলাদেশের হজ এজেন্সিগুলোর প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল আটকে রেখেছিল। বিষয়টি জানার পর হাব সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ ফেরত পেতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে। পরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় গতকাল আটকে রাখা ৩০ লাখ রিয়াল ফেরত পাওয়া গেছে।
হাব নেতারা এ জন্য প্রধানমন্ত্রী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা অবশিষ্ট অর্থও দ্রুত ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এছাড়া সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, মক্কায় কাউন্সেলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম, কনসাল (হজ) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং হজ কার্যক্রমে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
হজযাত্রীদের সেবায় সহযোগিতার জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াহসহ সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে হাব নেতারা জানান, ২০২৭ সালের হজে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত যাত্রীদের প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা আগামী ৭ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে বাকি টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন না করলে প্রাথমিক নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হবে। এতে সংশ্লিষ্টদের আগামী বছরের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
সুতরাং, প্রাথমিক নিবন্ধন করা সব হজযাত্রীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের বাকি টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে হাব।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, গণমাধ্যমের সহযোগিতায় হজ ব্যবস্থাপনা ক্রমেই সুশৃঙ্খল ও সফল হচ্ছে। ২০২৬ সালের হজ অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরও হজ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন