প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্য ইরিত্রিয়ার নাগরিকদের ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যদি তারা ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতা না করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই সতর্কতা প্রদান করেছেন।
বিবিসি জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার থেকে ইরিত্রিয়ার কূটনীতিকদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। তাদের লন্ডন থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার অনুমতি থাকবে না। এছাড়াও, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে।
যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, ইরিত্রিয়া নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করছে না। তবে ইরিত্রিয়া এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে ‘রাজনৈতিক লোকদেখানো কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশটির দূতাবাসের অভিযোগ, যুক্তরাজ্য ফেরত পাঠানোর জন্য যথেষ্ট তথ্য প্রদান করেনি এবং অর্থবহ আলোচনায় অংশগ্রহণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে ছোট নৌকায় করে দেশটিতে আসা অভিবাসীদের মধ্যে ১৮ শতাংশই ইরিত্রিয়ার নাগরিক ছিলেন। ওই সময়ে ৫ হাজার ৮০০ জনের বেশি ইরিত্রীয় ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু একই সময়ে মাত্র সাতজন ইরিত্রীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন মনে করেন, ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের প্রভাব সীমিত হতে পারে। তার মতে, ইরিত্রিয়া থেকে আসা বেশিরভাগ আশ্রয়প্রার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানো কঠিন, কারণ তারা অধিকাংশই আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন।
ইরিত্রিয়ায় দীর্ঘকাল ধরে একদলীয় শাসন চলছে। ১৯৯৩ সালে স্বাধীন হওয়ার পর দেশটিতে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ, জোরপূর্বক শ্রম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে অনেক তরুণ দেশটি ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
এর আগে নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতা না করায় অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধেও যুক্তরাজ্য ভিসা বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। পরে সহযোগিতা বাড়ানোর কারণে কঙ্গোর ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ছোট নৌকায় করে ২০ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ দেশটিতে এসেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৪০ শতাংশ কম।
এদিকে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে ৪০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে ফেরত পাঠানো বা বহিষ্কার করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৮ শতাংশ বেশি। তাদের মধ্যে ৬ হাজারেরও কম ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন