প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংসদ ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এসব বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
আজ জাতীয় সংসদে যশোর-৫ আসনের বিরোধী দলের সদস্য কাজী এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। মন্ত্রী বলেন, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে বিভিন্ন দেশের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করা বাংলাদেশি নাগরিকরা ওই দেশের আইনি প্রক্রিয়ার অধীন থাকেন, তাই সরকারকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হয়।
তিনি আরও জানান, বিদেশের কারাগারে বন্দি বাংলাদেশি নাগরিকদের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশন কারাগার অথবা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এরপর আটক ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, মামলাসংক্রান্ত পরামর্শ এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, যদি কোনো বন্দির আইনজীবী নিয়োগের সক্ষমতা না থাকে, তবে আদালতের মাধ্যমে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশন প্রচেষ্টা চালায়। বন্দির পরিবার যদি আলাদাভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে চান, তাহলে মিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, জরিমানা পরিশোধের প্রয়োজন হলে বন্দির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরিমানা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। একইসাথে দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়। যদি পরিবার প্রত্যাবাসন ব্যয় বহনে অসমর্থ হয়, তবে সরকারি অর্থে ওই ব্যয় বহন করা হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় প্রটোকলসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দ্রুত ট্রাভেল পাস ইস্যুর ব্যবস্থা করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশস্থ বাংলাদেশের মিশনগুলো এই সেবাগুলো প্রদান করে, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
তিনি জানান, ক্ষেত্রবিশেষে স্বাগতিক দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার জন্যও জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিক এবং মিয়ানমারে আটক তিন বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই একটি পোর্টাল চালু করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন