প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মন্তব্য করেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য ডাব খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। বর্তমানে ডাব খাওয়ার প্রবণতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, চিকিৎসাকেন্দ্রের সামনে ডাবের খোসা ও উচ্ছিষ্টের স্তূপ দেখা যাচ্ছে। সেখানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। এডিস মশা ডাবের মিষ্টি অংশ খেতে বেশি পছন্দ করে, কারণ সেখানে সুস্বাদু আস্তর ও মিষ্টি পানি বিদ্যমান।
তিনি আরও বলেন, অনেক চিকিৎসক রোগীদের ডাব বা মাল্টা খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে এভাবে ডাব ও মাল্টা খেয়ে কৃত্রিমভাবে তাদের দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। সাধারণ স্যালাইন খেলেই যেখানে কাজ চলে, সেখানে ডাব খাওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
রোববার নগরীর একটি হোটেলে চিকিৎসকদের এক কর্মশালায় এনসিপি নেতাকর্মীদের মশারি টাঙিয়ে প্রতিবাদের জবাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়া কোনো রোগ নয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার অনেক কম। প্রেস ক্লাবের সামনে মশারি টাঙিয়ে বা চেহারা দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে, কিন্তু তাতে সমস্যার প্রকৃত সমাধান হয় না। সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে এবং ভুল তথ্য বা গুজব ছড়ানো উচিত নয়। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কার্যকর কিছু করা সম্ভব নয়।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মেয়র জানান, চলতি বছর চট্টগ্রামে মোট ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নগরে ১০ জন এবং জেলায় ১৩ জন মারা গেছেন। সীতাকুণ্ডে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে, যা তার এলাকার বাইরে। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে এমনটি ঘটছে। অথচ যারা মশারি টাঙিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তারা এই সঠিক তথ্যটুকুও জানেন না। সীতাকুণ্ডে বেশি মৃত্যু হওয়ার পরও চসিকের পক্ষ থেকে সেখানে ওষুধ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ভুল তথ্যের কারণে অনেকে দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন।
চসিক মেয়র আরও জানান, চলতি বছর চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৫১৭ জন। অন্যদিকে ঢাকার দুই সিটিতে চলতি বছর ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ চসিক এলাকায় মারা গেছেন মাত্র ১০ জন। নগরীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃত ‘বিটিআই’ লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবছর আক্রান্তের হার অনেকটাই কমেছে।
মেয়র বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে গত সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছিল। তাছাড়া নগরে প্রধান হাসপাতালগুলো অবস্থিত হওয়ায় জেলার রোগীদের চাপও চসিকের ওপর পড়ছে। সীতাকুণ্ডে আক্রান্ত হলেও মানুষ মনে করছে তা নগরেই হচ্ছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, দিনের বেলায় এডিস মশা বেশি কামড়ায় এবং যারা দিনে বেশি ঘুমান, বিশেষ করে ফজরের নামাজের পর, তারা ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হন।
‘ডিভিশনাল ট্রেনিং অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক ওই কর্মশালায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মনির-উজ-জামান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া আল-আজিজ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে হাশমিরা হায়দার চৌধুরী নামের এক নারীর উদ্যোগে মশারি টাঙিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ‘মশা বড় নাকি মেয়র বড়?’—এমন স্লোগান ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করা হয়। ওই কর্মসূচিতে চট্টগ্রামের এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আফরিন উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন