প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুস্থ থাকার জন্য দিনের শুরুতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সকালের নাশতা গ্রহণের সময় অনেকেই এমন কিছু ভুল করেন, যা শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কিছু মানুষ নাশতা না খেয়েই কাজে বেরিয়ে যান, আবার কেউ কেবল চা-বিস্কুট খেয়ে সকাল পার করেন। এছাড়া অনেকে নাশতায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি ও পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার রাখেন।
এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চলতে থাকলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সকালের নাশতায় কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত, তা জানা প্রয়োজন।
সকালের নাশতায় যে ৭টি ভুল এড়িয়ে চলবেন
১. নাশতা না খেয়েই দিন শুরু করা
অনেকেই ওজন কমানোর জন্য অথবা ব্যস্ততার কারণে সকালের নাশতা বাদ দেন। এতে দিনের শুরুতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের সুযোগ নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সকালে ক্ষুধা অনুভব করেন, তাঁদের জন্য দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে শুধু ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে নাস্তা বাদ দিলে যে ওজন কমবে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
২. শুধু চা-বিস্কুট খেয়ে থাকা
বাংলাদেশে অনেকের সকালের নাশতায় চা ও বিস্কুট প্রধান খাবার হিসেবে থাকে। কিন্তু এই খাবারগুলি থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও আঁশ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এটি যথেষ্ট নয়। এর পরিবর্তে ডিম, আটার রুটি, দুধ অথবা ফল রাখা যেতে পারে।
৩. নাশতায় প্রোটিন না রাখা
সকালের খাবারে প্রোটিনের অভাব আরেকটি সাধারণ ভুল। অনেকেই শুধু রুটি, পাউরুটি বা সিরিয়াল খেয়ে নাশতা শেষ করেন। অথচ ডিম, দুধ, টক দই, ডাল এবং বাদামের মতো খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস। এগুলো খাবারের পুষ্টিমান বাড়াতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।
৪. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া
সকালে মিষ্টি চা, মিষ্টি বিস্কুট, কেক, ডোনাট অথবা চিনিযুক্ত সিরিয়াল খাওয়ার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় আঁশ ও প্রোটিন কম থাকে। ফলে দ্রুত ক্ষুধা লাগতে পারে। হার্ভার্ড হেলথের পরামর্শ অনুযায়ী, সিরিয়াল কেনার সময় উপাদান ও পুষ্টিগুণের তালিকা দেখে কম চিনিযুক্ত এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া উচিত।
৫. আঁশসমৃদ্ধ খাবার বাদ দেওয়া
অনেকের নাশতায় শাকসবজি ও ফলমূলের উপস্থিতি থাকে না। অথচ ফল, সবজি, ওটস এবং গোটা শস্যজাতীয় খাবার আঁশের ভালো উৎস। এসব খাবার হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি অনুভব করতে সাহায্য করে। তাই সকালের নাস্তায় একটি ফল অথবা সবজি রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে।
৬. একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া
সকালের নাশতা বাদ দিয়ে দীর্ঘ সময় পর একসঙ্গে অনেক খাবার খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। আবার কেউ কেউ দিনের শুরুতেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভাজাপোড়া, পরোটা ও মিষ্টিজাতীয় খাবার খান। এতে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। তাই নিজের ক্ষুধা ও দৈনন্দিন কাজের চাহিদা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরি।
৭. পানি পান করতে ভুলে যাওয়া
রাতের দীর্ঘ বিরতির পর সকালে অনেকেই পানি পান করার কথা ভুলে যান। দিনের শুরুতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের অভ্যাস রাখা ভালো। নাশতার পাশাপাশি এক গ্লাস পানি পান করা যেতে পারে। তবে চা বা কফিকে পানির বিকল্প হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
তাহলে সকালের নাশতায় কী খাবেন?
সকালের নাশতায় খুব দামি অথবা বিশেষ কোনো খাবার রাখার প্রয়োজন নেই। পরিচিত খাবার দিয়েই পুষ্টিকর নাস্তা তৈরি করা সম্ভব। যেমন—
একটি বা দুটি সেদ্ধ ডিম, আটার রুটি ও সবজি।
দুধ দিয়ে ওটস এবং সঙ্গে একটি কলা।
টক দই, মৌসুমি ফল ও অল্প কিছু বাদাম।
সবজি দিয়ে তৈরি ডিমের অমলেট ও আটার পাউরুটি।
ডাল, রুটি ও মৌসুমি সবজি।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রকাশিত হেলদি ব্রেকফাস্ট আইডিয়াস টু সাপোর্ট এনার্জি অ্যান্ড মেটাবলিজম শীর্ষক প্রতিবেদনে সকালের নাশতায় প্রোটিন, আঁশসমৃদ্ধ শর্করা এবং ফলমূল ও সবজি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) পরামর্শেও কম চিনি ও বেশি আঁশযুক্ত খাবার বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য স্বাস্থ্যকর সকালের নাশতা মানেই বেশি খাবার খাওয়া নয়। বরং পরিমিত পরিমাণে সুষম খাবার বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স, শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন কাজ ও পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী নাস্তায় খাবারের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন