প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য স্থাপিত কাঁটাতারের বেড়া কেটে একের পর এক অবৈধ চলাচলের পথ তৈরির বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। এই সব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে স্বাধীনভাবে যাতায়াত করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কাঁটাতারের কাটানো অংশ এখন শুধু যাতায়াতের জন্য পথ নয়, বরং ইয়াবা পাচার, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে জড়িত অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। কালবেলার একটি প্রতিবেদনে এসবের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরেজমিনে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক স্থানে কাঁটাতারের বেড়া কেটে এমন কিছু পথ তৈরি করা হয়েছে যা মানুষের চলাচলের উপযোগী। কোথাও বেড়ার নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও পুরো অংশ সরিয়ে মুক্ত যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র মতে, দিনের পাশাপাশি রাতের অন্ধকারেও এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে প্রবেশ ও বের হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা পাচার, অস্ত্র বহন, চুরি, ডাকাতি এবং শিশু নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, অপরাধ সংঘটনের পর অনেক দুর্বৃত্ত কাঁটাতারের কাটা অংশ ব্যবহার করে দ্রুত ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। কাটা অংশ দিয়ে প্রতিদিনই যাতায়াত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। এসব পথ বন্ধ না হলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ক্যাম্পের নিরাপত্তা শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং পুরো উখিয়া-টেকনাফের জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যারা অবৈধ পথ তৈরি করছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার এবং যৌথ টহল জোরদার করা জরুরি।
উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেছেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্যাম্পের বাইরের রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যাওয়ার ফলে ইয়াবা পাচার, অপহরণের মতো নানা অপরাধ দমন করা কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু বেড়া নির্মাণই যথেষ্ট নয়, কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেছেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। কিন্তু সে বেড়া যদি কেটে অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি হয়, তাহলে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। বিষয়টি কেবল স্থানীয় নিরাপত্তার নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অবিলম্বে কাটা অংশ মেরামত ও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ চলাচল বা অপরাধ সংঘটনের কোনো তথ্য পেলে তা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন