প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ মানে গ্যালারিতে দর্শকদের ভিড়, দুই দলের সমর্থকদের উল্লাস এবং মাঠের উত্তেজনা। তবে সম্প্রতি ম্যাচ শুরুর আগে বা বিরতির সময় মাঠে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক দৃশ্য।
কিছু জায়গায় রাখা হচ্ছে পুষ্পস্তবক, ফুটবলারদের এবং রেফারির জার্সিতে দেখা যাচ্ছে লাল ফুলের প্রতীক। আবার বেজে উঠছে একটি বিশেষ বাঁশির সুর। এরপর নেমে আসে নীরবতা। প্রিমিয়ার লিগের পরিচিত মঞ্চে কেন এমন আয়োজন?
এর পেছনে রয়েছে ব্রিটেনের দীর্ঘকালীন একটি ঐতিহ্য। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারানো সেনাসদস্যদের স্মরণ এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রিমিয়ার লিগে এই আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের নাম রিমেমব্র্যান্স ডে বা স্মরণ দিবস।
লাল ফুলের গল্প
প্রিমিয়ার লিগের মাঠে যে লাল ফুল দেখা যায়, সেটির নাম রেড পপি। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ বিভিন্ন যুদ্ধে নিহত সেনাসদস্যদের স্মরণে এই ফুল ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে পপি ফুল যুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় প্রচুর পপি ফুল ফুটে উঠেছিল। সেই দৃশ্য থেকেই যুদ্ধাহত ও নিহত সেনাদের স্মরণে ফুলটি প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
খেলোয়াড়দের জার্সিতেও থাকে রেড পপি। ছবি: রয়টার্স
নভেম্বর মাসে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর খেলোয়াড়দের জার্সিতে পপি ফুলের প্রতীক দেখা যায়। মাঠে রাখা হয় পুষ্পস্তবকও।
বাঁশির সুরে কেন নীরবতা
মাঠে যে বিশেষ সুরটি বাজানো হয়, সেটির নাম দ্য লাস্ট পোস্ট। এটি সামরিক ঐতিহ্যের একটি বিশেষ বাগল বা তূর্যধ্বনি। যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের স্মরণে এবং তাদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এই সুর বাজানো হয়।
যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের স্মরণে বাগল বাজানো হয়। ছবি: সংগৃহীত
সুরটি বাজানোর পর সাধারণত এক বা দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি, কর্মকর্তা ও দর্শকেরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শুধু স্মরণ নয়, সহায়তারও উদ্যোগ
এই আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবিক একটি উদ্যোগও। যুক্তরাজ্যের সাবেক ও বর্তমান সেনাসদস্য এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায় রয়্যাল ব্রিটিশ লিজিয়ন নামের একটি দাতব্য সংস্থা।
পপি ফুলের প্রতীকসংবলিত জার্সি অনেক সময় ম্যাচের পর নিলামে তোলা হয়। সেখান থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারকে সহায়তার কাজে ব্যয় করা হয়।
১১ নভেম্বর কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রতি বছর ১১ নভেম্বর পালিত হয় রিমেমব্র্যান্স ডে বা স্মরণ দিবস। ১৯১৮ সালের এই দিনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মরণেই ব্রিটেনে দিনটি পালন করা হয়। ১১ নভেম্বর বা এর কাছাকাছি তারিখে অনুষ্ঠিত ফুটবল ম্যাচগুলোতে তাই বিশেষ আয়োজন থাকে।
ফলে প্রিমিয়ার লিগের মাঠে লাল ফুল কেবল একটি প্রতীক নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে যুদ্ধের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, শ্রদ্ধা ও মানবিকতার গল্প। ৯০ মিনিটের ফুটবল লড়াইয়ের বাইরেও যে খেলাটির সমাজ ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, এই আয়োজন সেটিই মনে করিয়ে দেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন