প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য স্থিতিশীল গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীদের জন্য মুনাফার চেয়ে গণতন্ত্র এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় নিশ্চিত হলে বিনিয়োগের নিরাপত্তা সম্পর্কে তাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
সম্প্রতি ঢাকা সফরের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। সফরের সময় তিনি ইউরোপের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়েও বাংলাদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এই উত্তরণের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং শ্রমমান নিশ্চিত করা এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইইউর নতুন বিধি অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য ইউরোপের বাজারে নিষিদ্ধ হতে পারে। ২০২৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে এই বিধি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ঢাকা সফরে শুর্দ শুর্দসমার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। তবে শ্রম অধিকারের মানদণ্ড পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা ইইউর একমাত্র লক্ষ্য নয়। বাংলাদেশসহ অংশীদার দেশগুলোর উৎপাদক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ইউরোপীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারে, সেই জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
ডাচ মন্ত্রীর মতে, এই ধরনের সহযোগিতায় তিন পক্ষই লাভবান হবে। এতে শ্রমিকদের অধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কারখানাগুলোতে সন্তুষ্ট কর্মী পাওয়া যাবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শুর্দ শুর্দসমার। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
শুর্দ শুর্দসমার বলেন, বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হলে স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর জন্য স্থিতিশীল গণতন্ত্রের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা থাকলে ব্যবসায়ীরা তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ থাকবে বলে আস্থা অর্জন করেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেদারল্যান্ডসের এই মন্ত্রী। তার মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়া গেলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন