প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রশাসককে অবহিত না করে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠান বিটোপিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের দুই দিন পর বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সহায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে ২২ সেপ্টেম্বরের স্মারকের ভিত্তিতে গঠিত সহায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীনের সই করা চিঠিটি বেসিসের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে সহায়ক কমিটির পক্ষ থেকে বিটোপিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, ব্যক্তিগত পরিচয় ও তথ্য ব্যবহার, অর্ডার ও রিভিউ ব্যবস্থাপনা এবং কর্মী ও ফ্রিল্যান্সারদের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়।
তবে বেসিসের প্রশাসক খদিজা নাজনিন সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পূর্বে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন। এ কারণে কমিটির সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের এখতিয়ার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে বেসিসের প্রশাসক খদিজা নাজনিন জানিয়েছেন, তিনি সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে অবগত ছিলেন না এবং সাংবাদিকের কাছ থেকেই এ বিষয়ে জানতে পেরেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি সহায়ক কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন, তবে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে সহায়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. জুয়েল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রশাসক বিষয়টি জানেন এবং সবকিছু সম্পর্কে অবগত। শনিবার হওয়ায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং কমিটির সদস্যরা তার পক্ষেই কথা বলছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা দেয়। ২৬ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সহায়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ফেরদৌস আলমের সঙ্গে সাংবাদিকদের বাক্যবিনিময় ঘটে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নে আপত্তি জানিয়ে ফেরদৌস আলম তাকে সাংবাদিকতা শেখার পর প্রশ্ন করতে বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিষয়টি নিয়ে আবার কথা-কাটাকাটি হয়।
পরে ওই সাংবাদিক অভিযোগ করেন, বেসিস কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ফেরদৌস আলম তার চলার পথে বাধা দেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন।
বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তার জবাব
২৬ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে বিটোপিয়া গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, ব্যক্তিগত পরিচয় ও তথ্য ব্যবহার, অর্ডার ও রিভিউ ব্যবস্থাপনা এবং কর্মী ও ফ্রিল্যান্সারদের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মার্কেটপ্লেসের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগও করা হয়।
তবে বিটোপিয়া গ্রুপ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, সংবাদ সম্মেলনের পেছনে একটি পূর্ববর্তী ঘটনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সাংবাদিক পরিচয়ে দুই ব্যক্তি বিটোপিয়া গ্রুপের কার্যালয়ে এসে ‘টাইমস পিআর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেন। বিটোপিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই দুই ব্যক্তির একজন নিজেকে দৈনিক কালবেলার এবং অন্যজন প্রথম আলোর সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। তিন মাসের জন্য পিআর কার্যক্রম পরিচালনার বিনিময়ে তাদের পক্ষ থেকে ৬০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিটোপিয়া জানায়, এত বড় অঙ্কের অর্থে পিআরের কাজ করাতে তারা আগ্রহী নয় বলে জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।
বিটোপিয়ার আরো অভিযোগ, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় বেসিসের সহায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্যকে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসব প্রসঙ্গে বিটোপিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে বিটোপিয়া কার্যালয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তা এবং পিআর প্রস্তাবের বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার পর নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
মনির হোসেন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটা যথাযথভাবে তদন্ত করা হোক। আমরা সব তথ্য-প্রমাণ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু কোনো একটি পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন বা অভিযোগ তোলা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন