প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন রক্ষায় বনরক্ষীদের নজরদারি ও প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে, বনের গভীরে যেসব স্থানে নৌযান অচল হয়ে পড়েছে, সেসব জায়গায় পায়ে হেঁটে অর্থাৎ ফুট পেট্রোলিং এর মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যেখানে ফুট পেট্রোলিংও সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন উড়িয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। সর্বোপরি, নানান ধরনের অভিযান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে বন অপরাধ দমনে পশ্চিম বিভাগে উল্লেখযোগ্য সফলতার দেখা মিলেছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান বাসসকে জানিয়েছেন, জনবল সংকট, উন্নত জলযানের অভাবে এবং আধুনিক সুযোগ সুবিধার অভাব থাকা সত্ত্বেও বনকে নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বনের অতন্দ্র প্রহরীরা।
বন বিভাগ সূত্র জানাচ্ছে, গত ১ বছরে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে নানা সাঁড়াশি অভিযানে ২৯৪টি মামলায় ৩৯৬ জন বন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ, ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস, এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ মৎস্য ও কাঁকড়া আহরণের সরঞ্জাম। একই সাথে, বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করার জন্য জড়িত ১৩৫ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এর ফলে বন অপরাধ বিগত দিনের তুলনায় অনেক কমতে শুরু করেছে।
সূত্র জানাচ্ছে, বন বিভাগ ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনরক্ষীরা বনের গভীরে পায়ে হেঁটে ও জলপথে এই অভিযানে অংশগ্রহণ করবেন। এই ১ বছরে বন অপরাধের দায়ে খুলনা রেঞ্জে মোট ২৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৯৬ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি রয়েছে ৬৩ জন। এর মধ্যে অভয়ারণ্যে মাছ ও কাঁকড়া ধরার অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ১০৬টি। বিষ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ৩৩টি।
খুলনা রেঞ্জের অধীন বনের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে গত ১ বছরে জব্দকৃত সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ২২টি ট্রলার, ৩৪৯টি নৌকা, ৬ হাজার ৯৮৬টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার (আটন) ফাঁদ, ৯ হাজার ৮৩৩ মিটার দৌনদড়ি, ২ হাজার ৬১২ কেজি মাছ এবং ১ হাজার ৯৮১ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া।
এছাড়া, সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে দস্যু ও অসাধু চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮৭ বোতল মাছ ধরার অবৈধ কীটনাশক, এবং জব্দ করা হয়েছে ২০৩ কেজি মধু। হরিণ সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৩৩টি। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস এবং ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ।
সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, স্মার্ট টহল টিম ও বিশেষ টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে এবং ফুট পেট্রোলিং করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, অপরাধ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে জেলেদের আগ্রাসী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা বন অপরাধ দমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সুন্দরবনের হরিণ শিকার ও বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে।
জনবল সংকট ও আধুনিক জলযানের অভাবে এই বিশাল সম্পদ পাহারা দিতে ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে বনকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছে। সেই সাথে বন নির্ভর জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় বনের উপর চাপ কমছে না। ফলে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিনরাত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বাসসকে বলেছেন, বনের গহীনে ফুট পেট্রোলিং ও আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন উড়িয়ে অপরাধীর শনাক্তকরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বন অপরাধ দমনে সফলতা এসেছে। সর্বোপরি, বনরক্ষীরা চরম ঝুঁকি ও কষ্ট মাথায় নিয়ে দুর্গম বনে পায়ে হেঁটে এবং নদীতে নৌযান চালিয়ে নিয়মিত টহল দিয়ে বন অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। যে কোনো উপায়ে সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে বন বিভাগ সদা জাগ্রত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন