প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সেবার তথ্য, সার্ভিস ডেলিভারি ম্যাট্রিক্স, পলিসি ব্রিফ ও ট্র্যাকার যদি একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা যায়, তাহলে সরকারের পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন, নাগরিক সেবা পরিবীক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হবে।
তিনি সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির সম্মেলন কক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারি পলিসি ব্রিফস অ্যান্ড ম্যাট্রিক্স’ শীর্ষক কর্মশালায় এ কথা বলেন।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, নাগরিকদের দেওয়া সেবাগুলো চিহ্নিত করতে হবে, যেমন: কারা সেবার উপকারভোগী, কোন প্রতিষ্ঠান সেবা প্রদান করছে, এতে কত ব্যয় হচ্ছে এবং প্রত্যাশিত ফলাফল কী। একইসঙ্গে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায় রয়েছে এবং তা সমাধানের উপায় কী, সেটিও নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সেবাগুলোকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করতে হবে। এরপর প্রতিটি সেবার উপকারভোগী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধিদপ্তর, প্রয়োজনীয় বাজেট এবং সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাকে একটি সার্ভিস ডেলিভারি ম্যাট্রিক্সের আওতায় আনতে হবে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি সেবাকে শুধুমাত্র একটি মন্ত্রণালয়ের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। নীতি, উপকারভোগী, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, বাজেট, প্রত্যাশিত ফলাফল এবং নাগরিকের মতামত—এসব বিষয়কে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
এভাবে জাতীয় পর্যায়ে সরকারি সেবার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই ধরনের সেবার পুনরাবৃত্তি কমানো এবং আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করা যাবে। সেবা ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের সঙ্গে বাজেট বরাদ্দের যোগসূত্রও তৈরি হবে।
এতে কর্মকর্তারা তাদের কাজের সঙ্গে পরিমাপযোগ্য ফলাফলের সম্পর্ক স্পষ্টভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন।
সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে একটি ট্র্যাকার রাখতে হবে। সেখানে সমস্যা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, করণীয়, সময়সীমা ও অগ্রগতির তথ্য থাকবে।
কর্মশালার মূল লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, নীতিকে সেবার সঙ্গে, সেবাকে উপকারভোগীর সঙ্গে, উপকারভোগীকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং প্রতিষ্ঠানকে বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করা।
এছাড়া কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতাকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে সিভিল সার্ভিসের মেধা ও সক্ষমতাকে আরো কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে নাগরিক সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা দেখাশোনার দায়িত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে ম্যাট্রিক্স তৈরি করা হলে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সেবা একসঙ্গে মনিটরিং করা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবাকর্মীদের মাসিক সম্মানি ভাতা—একই ম্যাট্রিক্সের আওতায় এনে সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ট্র্যাকার চালু করা হবে।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের জনগণের সেবায় আরো নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন।
কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির ফ্যাকাল্টি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন